পিরোজপুরের নাজিরপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী তিন চাচার বিরুদ্ধে। ওই নারী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রতিবেশী তিন চাচাকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর কথা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের মৃত গনি মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৬০), মো. ইব্রাহিমের ছেলে রাকিব (২৮) এবং আউয়াল হোসেনের ছেলে মো. আল-আমিন (৪০)।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই নারীর শারীরিক পরিবর্তন তাদের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক পরীক্ষা করানো হয়। এতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রতিবেশী চাচা শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে হাঁস-মুরগির পরিচর্যা করার কথা বলে তাকে বাড়িতে ডেকে নেন। পরে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।
অন্য দিন তার আরেক প্রতিবেশী চাচা রাকিব মুরগির ফার্মে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া প্রতিবেশী আরেক চাচা আল-আমিনও তাকে ধর্ষণ করেন বলেও জানান তিনি। পরবর্তীতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘মেয়েটি অতি সহজ-সরল প্রকৃতির। নিজের ভালো-মন্দ অনেক সময় ঠিকমতো বুঝতে পারে না, যাকে চিনতে পারে তার ডাকে সাড়া দেয়। কিছুদিন আগে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয়। পরে পরীক্ষা করালে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। কারা তার সঙ্গে এমন কুকর্ম করেছে, মেয়ের কাছ থেকে জানতে পেরে আমরা হতবাক হয়ে যাই। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সে মানুষের কথা সহজে বিশ্বাস করে। প্রতিবেশী হিসেবে যাদের চাচা বলে জানত, তাদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ উঠেছে। মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন, রাকিব ও আল-আমিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার লিমা আক্তার ও গাইনি কনসালটেন্ট প্রীতিশ বিশ্বাস জানান, ওই নারী তলপেটে ব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখে সন্দেহ করেন যে তিনি গর্ভবতী হতে পারেন। এ অবস্থায় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরীক্ষায় প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি জানা যায়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে তিনজনকে বিবাদী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

