ফ্যাসিবাদের আমলে আমাদের ৭০০ ভাইকে গুম করা হয়েছিল: শিবির সভাপতি

ফ্যাসিবাদের আমলে আমাদের ৭০০ ভাইকে গুম করা হয়েছিল: শিবির সভাপতি

বিগত ১৭ বছরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাচার চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে প্রায় সাতশ ভাইকে গুম করা হয়েছিল, ১০৮ জনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে এবং এক হাজারের অধিক ভাইকে জখম করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৫ হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। এত নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম থেমে থাকেনি, বরং এ সময়ে সংগঠনের কলেবর তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে রংপুর কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ইসলামী ছাত্রশিবির কারমাইকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গুমের যে ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে একক ছাত্র সংগঠন হিসেবে ৩১ শতাংশ গুমের ঘটনা শুধু ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে ঘটেছে। সরকারের কাছে আমরা এই অভিযোগ দায়ের করতে পেরেছি। আমাদের যে সকল ভাইয়েরা দেশে আসতে পারে নাই, বিদেশে অবস্থান করছে এখনো পর্যন্ত, যারা এই গুমের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন কিন্তু অভিযোগ দায়ের করতে পারে নাই। সেই সংখ্যাটা অনেক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ নিহতদের স্মরণ করেন তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের কথা স্মরণ করছি, যার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা টোটাল বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বকাপন এই বিপ্লবের কথা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ স্মরণ করছে। আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সফরে যাই, আমাদের কাছে ওই দেশের ওই ভাষাভাষী মানুষগুলো বাংলাদেশের এই অভ্যুত্থানের কথা জানতে চায়। এই গল্পের কথা তারা জানতে চায়। কারণ একটা মনস্টার, একটা দৈত্য দানব আমাদের ঘাড় থেকে বিতাড়িত হয়েছে। নতুন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, যে বাংলাদেশ ইনসাফ আর ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত হবে। কিন্তু সেই বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু একটা ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো পরিবর্তন আমাদের দেশে এখনো ঘটে নাই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গেই তারা বলেছিল যে আপনারা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে রায় দিন, দয়া করে। এমন ভিক্ষা তারা চেয়েছিল। এই ভিক্ষুকের জাতি ক্ষমতায় আসার পরে নিজেদেরকে এখন মুনিব মনে করা শুরু করেছে। এখন তারা বলে যে আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছিল। হ্যাঁ ভোট যদি না মানতাম তাহলে ভোটই দিত না। এই ভয়ে আমরা হ্যাঁ ভোট মেনে নিছি। ক্ষমতায় যাওয়া তাদের একমাত্র দরকার ছিল।

গণভোটে দেওয়া ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গঠনমূলক সংস্কার হলে কোনো পক্ষের পক্ষে স্থায়ীভাবে ক্ষমতার বন্দোবস্ত করা সম্ভব হবে না। এ কারণেই সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে অনীহা দেখানো হচ্ছে। গণভোটে ৩০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর এসব বিষয়ে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া হয়নি।

পিএসসি সংস্কারের দাবি তুলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইভার নম্বর কমানো প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁরা এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

নুরুল ইসলাম সাদ্দামের অভিযোগ, ভাইভায় স্বজন ও পরিচিতজনের সুপারিশের সুযোগ থাকায় মেধাবীরা বৈষম্যের শিকার হন। তিনি বলেন, ভাই, চাচা, মামা-খালুর রেফারেন্স দেওয়া হয়। সেই রেফারেন্সের মাধ্যমে কাউকে ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৯০ নম্বর দেওয়া হয়। আবার অনেকে ভালো করলেও তাকে ৪০ নম্বর না দিয়ে নন-ক্যাডার করা হয় অথবা ফেল দেখিয়ে দেওয়া হয়। ভাইভার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ৫০ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে পিএসসিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি।

কারমাইকেল কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হক মাসুমের সভাপতিত্বে দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর জামায়াতের আমীর এটিএম আজম খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আনিসুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ। নবীর ২ হাজার ৫শত শিক্ষার্থী ও কৃতি ২শত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেন তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন