আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সাগরকন্যা কুয়াকাটা

মাইনুদ্দিন আল আতিক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সাগরকন্যা কুয়াকাটা

ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি ঘিরে পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অনন্য বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকায় কিছুটা নীরব থাকলেও ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে এ পর্যটন নগরী—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ধোয়া-মোছা, রং-তুলির কাজ শেষ করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে কক্ষগুলো। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সুবিধা। পাশাপাশি সৈকতের জিরো পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি, চর গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, কাউয়ার চর, মিনি সুইজারল্যান্ড, রাখাইন মার্কেট, সীমা বৌদ্ধ মন্দির ও শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দিরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটায় ২২০টিরও বেশি আবাসিক হোটেলে প্রায় ২৫-৩০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা থাকলেও ঈদের ছুটিতে দৈনিক পর্যটক সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ৬০-৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অনেক পর্যটক দিনব্যাপী ঘুরে রাতে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে সৈকতসংলগ্ন বাসাবাড়িতেও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে পরিবহন ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে এবারের ঈদে পর্যটক আগমনের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন পর্যটকের চাপ না থাকায় কুয়াকাটার ১৮ কিলোমিটার সৈকত এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বালুচরে লতা-গুল্মের বিস্তার, নতুন ফুলের সমাহার, আর লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ সৈকতজুড়ে তৈরি করেছে ভিন্ন এক নান্দনিক পরিবেশ। শীতের শেষে ও বর্ষার শুরুতে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। হোটেল ডি মোর-এর অপারেশন ম্যানেজার জয়নুল আবেদীন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রমজানের মন্দা কাটিয়ে এবার তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। পর্যটকদের বাড়তি সেবায় সুইমিং পুল ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, পর্যটকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে শতাধিক গাইডকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, অনেক পর্যটক বুকিং দিলেও যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে এবারের ঈদে কুয়াকাটায় পর্যটক আগমনের আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব কাউছার হামিদ জানান, নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউট সদস্য এবং রেসকিউ টিম মাঠে থাকবে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়ার শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, লেম্বুর বন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত পানি ও স্থলপথে টুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন থাকবে। সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন