কুয়াকাটায় ঘুস নেওয়ার অভিযোগে শ্রম পরিদর্শক আটক, উদ্ধার ৩৭ হাজার টাকা

কুয়াকাটায় ঘুস নেওয়ার অভিযোগে শ্রম পরিদর্শক আটক, উদ্ধার ৩৭ হাজার টাকা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে মো. শাহাব উদ্দিন নামের এক শ্রম পরিদর্শককে আটক করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে আটক করেন। এ সময় বিভিন্ন হোটেল থেকে জোরপূর্বক আদায় করা নগদ ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

হোটেল মালিকদের অভিযোগ, লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করতেন। শুক্রবার কুয়াকাটা প্যালেস ও হোটেল শৈবালে লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠার পর হোটেল মালিকেরা তাকে হাতেনাতে আটকের উদ্যোগ নেন।

হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন আগে ওই শ্রম পরিদর্শক আমাদের হোটেলে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমাদের হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা দেন। শুক্রবার বিকেলে আবার হোটেলে এসে জানান যে, ৩০ হাজার টাকা দিলে মামলা তুলে নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে আর হয়রানি করা হবে না। বাধ্য হয়ে আমরা তাকে টাকা দিই।

হোটেল সি-লেভেলের মালিক মো. সবুজ বলেন, কয়েক মাস আগে মামলার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার আবারও তার হোটেলে গিয়ে আট হাজার টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা নগদে দেওয়া হলেও বাকি তিন হাজার টাকা রাতে বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা ছিল।

হোটেল রিয়াজ আবাসিকের মালিক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ খান জানান, ওই কর্মকর্তা নিজের পরিচয় দিয়ে হোটেলগুলোর ভিজিটিং কার্ড ও নাম সংগ্রহ করতেন। পরে নোটিশ পাঠিয়ে লাইসেন্স করার কথা বলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে মামলার ভয় দেখাতেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া জানান, গত দুই বছর ধরে ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন হোটেল থেকে একইভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে বৈধভাবে লাইসেন্স করার নিয়ম নিয়ে কথা না বলে তিনি কেবল মামলার ভয় দেখিয়ে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করেছেন। তিনি অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাকে কুয়াকাটা থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ, বি ও সি শ্রেণির লাইসেন্স নবায়ন ফি সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে নগদ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগত সফরে কুয়াকাটায় গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, শ্রম পরিদর্শক বিভিন্ন স্থানে গিয়ে টাকা তুলছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করা ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যাতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত। তিনি ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং গত চার বছর ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন