সরকারি কলেজে নেই খেলার মাঠ, দুর্গন্ধে নাকাল ছাত্রীরা

সরকারি কলেজে নেই খেলার মাঠ, দুর্গন্ধে নাকাল ছাত্রীরা
কলেজ প্রাঙ্গণে ছাত্রীরা।

মাত্র ১৪ শতক জায়গায় এইচএসসি ও ডিগ্রি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী নিয়ে চলছে সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজ। পাঁচজনের বসার উপযোগী টেবিলে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে সাত-আটজনকে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, নেই খেলার মাঠ কিংবা শিক্ষার্থীদের বসা ও স্বাভাবিকভাবে হাঁটার মতো খোলা জায়গাও।

বিজ্ঞাপন

জায়গার সংকটে নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা কাজে লাগানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই অর্থ ফেরত গেছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রাশেদ মোহাম্মদ ইকবাল।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কলেজসংলগ্ন পুকুরের ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ, সড়কের ডাস্টবিন ও ময়লার স্তূপ এবং শিক্ষক সংকট। ফলে সরকারি কলেজ হয়েও ন্যূনতম শিক্ষা-পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রাশেদ মোহাম্মদ ইকবাল আমার দেশকে বলেন, মাত্র ১৪ শতক জায়গায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জায়গা না থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই। পাঁচজনের বসার জন্য তৈরি টেবিলে সাত-আটজন ছাত্রীকে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনা ও পাঠদান—দুটিই ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি কলেজ হলেও আমরা সরকার থেকে শুধু বেতন পাই, এইটুকুই। বলা যায়, নামে মাত্র সরকারি কলেজ।

কলেজে কোনো খেলার মাঠ নেই। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের হাঁটা, বসা কিংবা বিশ্রামেরও সুযোগ নেই। পাশেই সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার ছাত্রী থাকলেও তাদের জন্য নেই একটি মাঠও।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, বালিকা বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে অল্প পরিসরে জায়গা নিয়ে সরকারি মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে জায়গার সংকট শুরু থেকেই প্রকট। কলেজ ও বিদ্যালয়ের আশপাশের ময়লা, ডাস্টবিন এবং পুকুরের আবর্জনার দুর্গন্ধে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কলেজসংলগ্ন বিশাল পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

অধ্যক্ষ প্রফেসর রাশেদ মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, পুকুরের দুর্গন্ধে আমরা নিজেরাই অফিসে বসতে পারি না। শিক্ষার্থীদেরও অনেক কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়। পুরো পরিবেশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পুকুর পরিষ্কারের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

কলেজের পাশের সড়কে থাকা ডাস্টবিন ও ময়লার স্তূপও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়লা ও দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হয়। কোথাও কোথাও বাজার বসায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, কলেজের পাশে থাকা ডাস্টবিনটি প্রয়োজন হলে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পুকুরের দুর্গন্ধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন