চার লেন মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি

সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দিনদিনই বাড়ছে যানজট

সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দিনদিনই বাড়ছে যানজট
সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দিনদিন বাড়ছে যানজট। ছবি: আমার দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিরসন হচ্ছে না যানজটের ভোগান্তি বরং দিনদিনই এই যানজট প্রকট আকার ধারণ করছে। আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজে ধীরগতির কারণে এই যানজট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন লেন খুলে দেওয়ার পরও কমছে না যানজট। এতে এই মহাসড়কে ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট নিরসনে নতুন লেন খুলে দেওয়া হলেও কোনো সুফল আসেনি। বলা হয়েছিল, নতুন লেন খুলে দেওয়া হলে কমবে ভোগান্তি, স্বাভাবিক হবে যান চলাচল। কিন্তু বাস্তবতা যেন উল্টো। নতুন লেন চালুর দুইদিনের মাথায়ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় কাটেনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজট। বরং ছুটির দিনে দীর্ঘ হয়েছে যানবাহনের সারি। প্রায় ১২ কিলোমিটারজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ যানজট। কোথাও গাড়ি চলছে কচ্ছপগতিতে, কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে।

বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। শুরু থেকেই ধীরগতিতে চলছিল নির্মাণকাজ। এর সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাধিকবার কাজ বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে যানজট যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পই যখন ভোগান্তির কারণ, চার লেনের মহাসড়ক হওয়ার কথা ছিল মানুষের স্বস্তির জন্য। অথচ বছরের পর বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ এখন অনেকের কাছে দুর্ভোগের আরেক নাম। নতুন লেন চালু হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। কিন্তু অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ, অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বরোড মোড়ে যান নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে শুধু একটি লেন খুলে দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

গত শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বেড়তলা থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে বাড়িউড়া পর্যন্ত ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশ্বরোড মোড়ের গোলচত্বর অতিক্রম করতেই কোনো কোনো যানবাহনকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীসহ দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। গত বুধবার বিকালে সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রামমুখী নতুন লেন খুলে দেওয়া হয়। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের একটি লেন দিয়েই ঢাকা-সিলেট, সিলেট -ঢাকা এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহন চলাচল করছিল। ফলে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে উঠেছিল যানজটের স্থায়ী ফাঁদ। নতুন লেন চালুর পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল এবার অন্তত যানজট থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু দুইদিন পরই ছুটির দিনে দেখা গেল পুরোনো চিত্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু লেন খুলে দিলেই যানজটের সমাধান হবে না। বিশ্বরোড মোড় এলাকায় চলমান চার লেন প্রকল্পের ধীরগতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, চালকদের নিয়ম না মানা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের ব্যবস্থাপনায় ঘাটতিই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। আট কিলোমিটার যেতে তিন ঘণ্টা।

সরাইল বিশ্বরোড মোড় শুধু একটি গোলচত্বর নয়; এটি ঢাকা-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এখানে এসে যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়েই যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। নেই ফুটপাত। যানজটের মধ্যে সড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে অনেক যাত্রী শেষ পর্যন্ত গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হালিম বলেন, সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লাগামী লেন খুলে দেওয়ার পর যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে চালকরা নিয়ম না মানায় এবং উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন