জাল ফেলেও ইলিশ নেই, তজুমদ্দিনে জেলেদের হাহাকার

জাল ফেলেও ইলিশ নেই, তজুমদ্দিনে জেলেদের হাহাকার
ইলিশ না পাওয়ায় তজুমদ্দিনের চৌমুহনী ঘাটে অলস অবস্থায় পড়ে আছে শত শত নৌকা। ছবি: আমার দেশ

দ্বীপ জেলা ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীতে ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। আর এতে হতাশায় দিন অতিবাহিত করছেন প্রায় তিন শতাধিক নৌকার মালিক এবং বেকার হয়ে পড়েছে পাঁচ হাজারের ও বেশি জেলে।

তজুমদ্দিন মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, এ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১৯ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরাসরি মৎস্য পেশায় সম্পৃক্ত রয়েছেন সাত হাজারের বেশি। বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছেন পাঁচ হাজার জেলে। আক্ষেপ করে কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় তাতে নৌকার তেলের খরচই উঠছে না, সংসারও চালছে না।

বিজ্ঞাপন

শনিবার তজুমদ্দিনের স্লুইসগেট ঘাট, গুরিন্দা বাজার ঘাট এবং চৌমুহনী ঘাট ঘুরে দেখা যায়, মাছের গদি ঘরগুলোতে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও জেলেরা। ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছও অনেক কম ধরা পড়ায় মাছ ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন অনেকে। মনির নামের এক মাছ ব্যবসায়ী হতাশা প্রকাশ করে জানান, তিনটি নৌকা ও জালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে মাছ ব্যবসায় নেমেছেন কিন্তু এ বছর মাছের পরিমাণ কম হওয়ায় নদীতে তিনটি নৌকা নামানো বন্ধ করে দিয়েছেন। গুরিন্দা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী নুরনবী মিয়া বলেন, ‘অহন কত্ত ভরা-পুরা মসুম (মৌসুম)। কিন্তু কোনানোই (কোথাও) ইলিশের দেহা (দেখা) নাই, ব্যবসা করুম কেমনে।’ ইলিশ কম হওয়ার বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, মেঘনা নদী অত্যন্ত খরস্রোতা একটি নদী। তবে ডুবোচরের কারণে সমুদ্র থেকে উঠে আসা ইলিশের সঠিক চলাচলের প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। আর এ কারণে ইলিশ মাছ কম পাওয়া যায়। ডুবোচরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন