পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করে সংঘবদ্ধ চক্র

সেলিম উদ্দীন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করে সংঘবদ্ধ চক্র

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের মো. রায়হান (১২)। সৎমায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাত মাস আগে চুল কাটার কথা বলে ১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলেও ফিরে যায়নি বাড়িতে। সাত মাস পর সেই ছেলেকে পাওয়া গেল উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সিরাত মাহফিলে ডান পা-বিহীন ভিক্ষা করা অবস্থায়। তার অভিযোগ, ঢাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র কক্সবাজারে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে তার ডান পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত শনিবার রাতে চুনতি সিরাত মাহফিলের সমাপনী দিনে সিরাত ময়দানে ভিক্ষা করতে দেখে এলাকার এক ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন। পরে তার বাবাকে খবর দিলে তিনি ছুটে এসে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যান। পা হারানো রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, তাকে চুল কাটার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাজারে পাঠিয়েছিলেন এবং সে একটি মিছিলের গাড়িতে করে চুনতি বাজারে যায় বলে শুনেছিলাম। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

রায়হান জানান, চুনতি থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ডান পা কেটে ফেলে ভিক্ষা করতে বাধ্য করে। ভিক্ষা করে প্রতিদিন চক্রের সদস্যদের ৫০০ টাকা দিতে হতো বলে দাবি তার। তাছাড়া আরো অনেক শিশুর পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলে জানায় সে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও জনবহুল বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের অপহরণ ও প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করে থাকে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। তবে রায়হানের বক্তব্যের সত্যতা ও তার পা কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, সাত মাস পর তাকে ফিরে পেলাম, কিন্তু তার ডান পা নেই। ছেলের কাছ থেকে ঢাকার ওই চক্রের কথা জানতে পারি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে শাস্তির আওতার আনার পাশাপাশি রায়হানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রায়হানের পা কেটে ফেলে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি জানান, তাকে প্রতিবন্ধী ভাতাসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন