চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কারিগরদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনতাই করেছে একদল সশস্ত্র ছিনতাইকারী। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।
সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ করে স্বর্ণের দুই কারিগর এই দাবি করা হয়।
এই ঘটনায় পাঁচলাইশ থানা তদন্ত করছে। অভিযোগপত্রে, অস্ত্রের মুখে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের কথা বলা হলেও প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এমন কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই কারিগর সিএনজি অটোরিকশাযোগে ঢাকায় যাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নির্দেশে তার দুই কারিগর গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় পৌঁছালে সামনে থেকে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন মুখোশধারী তাদের অটোরিকশা থামিয়ে দেয়। অটোরিকশা থামানোর পর ছিনতাইকারীরা প্রথমেই দুই কারিগরকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তারা কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। গুলির শব্দে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সৌভাগ্যবশত কেউ হতাহত হয়নি।
ছিনতাইকারীরা মুহূর্তের মধ্যেই কারিগরদের কাছে থাকা ৩৫টি স্বর্ণের বার ও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর দ্রুতগতিতে হিলভিউ আবাসিক এলাকার পাহাড়ি অংশের দিকে পালিয়ে যায় তারা। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে।
এজাহারে ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজনের নাম ‘সুমন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ধারণা করা হচ্ছে, এরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাই করতে আসে এবং কারিগরদের গতিবিধি আগে থেকেই অনুসরণ করছিল।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ছিনতাইয়ের সময় তাদের মারধর করা হয়। এ নিয়ে রাতেই পাঁচলাইশ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চলছে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি এবং অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ করছি।
এই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক নুরুল আবছার আমার দেশকে বলেন, যেহেতু অভিযোগ দিয়েছে, আমরা বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। অভিযোগে, সিএনজিযোগে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্য ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। এ ধরনের গুরুতর ছিনতাইয়ের ঘটনা ব্যবসায়ীদের আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

