জ্বালানি তেলে অব্যবস্থাপনা

বিপিসি ও কাস্টমসের তথ্যে ব্যাপক ফারাক

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

বিপিসি ও কাস্টমসের তথ্যে ব্যাপক ফারাক
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, যদিও সরকারি বক্তব্যে এর স্বীকৃতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, নৌপথে স্থবিরতা ও শিল্প উৎপাদনে ধাক্কার চিত্র স্পষ্ট। কাঁচামাল ঘাটতিতে দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো। সীমিত মজুত দিয়ে রেশনিং করে সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও বিপুল চাহিদার চাপে তা ভেঙে পড়েছে। সরকার সংকটের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশের অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ, আর চালু থাকাগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। নৌপথ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় থমকে গেছে নৌযান চলাচল, পণ্য পরিবহন ও মৎস্য আহরণ। লাইটার জাহাজ না চলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পৌঁছানো যাচ্ছে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও পড়েছে ঝুঁকিতে।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামাল সংকট

দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে নতুন ক্রুড না আসায় ১৫ মার্চ থেকে কম সক্ষমতায় চালানো হচ্ছে ইউনিট। বর্তমান মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ মাঝ এপ্রিল পর্যন্ত চালানো সম্ভব বলে জানা গেছে। এরপর কাঁচামাল না এলে রিফাইনারি বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

ইআরএল সূত্র জানায়, বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি। সে হিসেবে মাসে প্রায় সোয়া লাখ টন ক্রুড প্রয়োজন হলেও ফেব্রুয়ারির পর থেকে নতুন কোনো চালান আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত জাহাজগুলোও আসতে পারেনি। এক লাখ টন ক্রুড ভর্তি করে একটি আমেরিকান জাহাজ সৌদি আরবের তানুরা বন্দরে আটকে আছে মার্চের ২ তারিখ থেকে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ইরান অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিলেও জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী হওয়ায় সেটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে না। গত ১৫ মার্চ জাহাজটির চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির জেটিতে নোঙর করার কথা ছিল। এছাড়া গত ২২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরেকটি ক্রুডভর্তি জাহাজের রওনা করার শিডিউল নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে সেই জাহাজটিও রওনা করেনি। এক কথায় ইস্টার্ন রিফাইনারি সর্বশেষ কাঁচামাল পেয়েছে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। স্বাভাবিকভাবে চললে মার্চের শেষে এসে এ কাঁচামাল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

বিপিসির অপারেশন বিভাগের জিএম মোরশেদ আজাদ জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কম সক্ষমতায় ইউনিট চালানো হচ্ছে, যা বিদ্যমান মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ মাঝ এপ্রিল পর্যন্ত টিকতে পারে। এর মধ্যে নতুন কোনো ক্রুড আসার সম্ভাবনা নেই। ইয়ানবু থেকে কেনা একটি চালান ২ মে পৌঁছাবে, আর স্পট মার্কেট থেকে আরেকটি চালান আনার প্রক্রিয়া চললেও সেটিও মে মাসের আগে পাওয়া যাবে না। পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে দীর্ঘদিন লো ক্যাপাসিটিতে চালালে প্রযুক্তিগত ঝুঁকিও রয়েছে, তাই এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত সাময়িক বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

এ ব্যাপারে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাতের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও অপারেশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি শোধন করে এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল, ফার্নেসসহ ১৪ রকমের তেল উৎপাদন করে ইআরএল। দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় চার হাজার ২০০ টন। সে হিসেবে মাসে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে নতুন কোনো চালান আসেনি। ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় দৈনিক ১৮০ থেকে ১৯২ টন মারবান ক্রুড পরিশোধন করা সম্ভব হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৫ থেকে ৬৮ টনে। এভাবে বেশিদিন চালানো সম্ভব নয়। বর্তমান মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ আরো ৮-৯ দিন ইউনিট সচল রাখা যাবে; এরপর কাঁচামাল না এলে শাটডাউন অনিবার্য।

এদিকে সাবেক জিএম ইঞ্জিনিয়ার মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, সরকার বিকল্প উৎস থেকে ক্রুড আনার কথা বললেও ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান ইউনিটগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের জন্য উপযোগী করে তৈরি। ফলে এখানে আবুধাবি, সৌদি আরব আর ইরানের ক্রুড ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা রাশিয়ার ক্রুড সহজে পরিশোধন সম্ভব নয়। এই সীমাবদ্ধতা ২০১০ সালেই চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই অন্য দেশের ক্রুড পরিশোধন করার জন্য ইআরএল-টু নামে আলাদা প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পতিত আওয়ামী লীগ সরকার সে প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।

সরকারের দাবির সঙ্গে আমদানি তথ্যের মিল নেই

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। প্যানিক বায়িংই সংকটের মূল কারণ। বিপিসি বলছে, গত বছরের এ দিনে যে পরিমাণ তেল এজেন্ট ও ডিলারদের সরবরাহ করা হয়েছিল, এ বছরও ঠিক একই পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু পাম্প মালিক, এজেন্ট ও ডিলাররা ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করছে প্রতিনিয়ত।

গণমাধ্যমে দেওয়া বিপিসির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চে দৈনিক গড়ে ডিজেলের সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৭৭৭ টন, অকটেন এক হাজার ১৯৩ টন ও পেট্রোল এক হাজার ৪৯৬ টন। এক বছর পর চলতি বছরের মার্চে দৈনিক গড় সরবরাহ করা হয়েছে ডিজেল ১১ হাজার ৯৯০ টন, অকটেন এক হাজার ২৫৮ টন ও পেট্রোল সরবরাহ ছিল এক হাজার ৩০৬ টন। এক বছর আগে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ করেছে, এ বছর সংকটের সময় ডিজেল ও পেট্রোলে সামান্য কম হলেও অকটেনের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশিই সরবরাহ করা হয়েছে।

কিন্তু বিপিসির এ তথ্যের সঙ্গে মিল নেই কাস্টমসের আমদানি তথ্যের। কাস্টমসের পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই মাস ধরেই জ্বালানি তেলের আমদানি নিম্নমুখী। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা অয়েল কোম্পানি মোট তেল আমদানি করে এক লাখ ৬০ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬৫ টন, একই সময় মেঘনা পেট্রোলিয়াম এক লাখ ২৪ হাজার সাত দশমিক ০৩ টন, যমুনা অয়েল এক লাখ ১৯ হাজার ১১১ দশমিক ৯৭৫ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা অয়েল আমদানি করে এক লাখ ৩২ হাজার ৪০২ দশমিক ৪৬ টন, মেঘনা এক লাখ ৬০ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৭৬ টন এবং যমুনা অয়েল ৮৬ হাজার ১৯০ দশমিক ৮৯ টন জ্বালানি তেল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বিপণন কোম্পানি মিলে মোট চার লাখ তিন হাজার ৯৭৭ দশমিক ৬৫৫ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এক বছর পর ওই মাসে জ্বালানি তেলের আমদানি ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৮১৮ দশমিক ৫৪৫ টন তেল।

মার্চের ১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত আপডেট করা হয়েছে কাস্টমসে। গত বছরের এ সময়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানি ২৩ হাজার ৭৩ টন, মেঘনা অয়েল এক লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৬ টন এবং যমুনা অয়েল ৬৪ হাজার ৭৪৬ টন তেল আমদানি করে। এক বছর পর ২০২৬ সালের মার্চের প্রথম ২৩ দিনে পদ্মা অয়েল কোনো তেল আমদানি করতে পারেনি। মেঘনা ৯৩ হাজার ৯৪২ দশমিক পাঁচ টন এবং যমুনা অয়েল ৭৫ হাজার ৬৬৪ টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। তিন কোম্পানি মিলে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চে আমদানি কমেছে ৬৫ হাজার ৬৮৯ টন জ্বালানি তেল। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই কাঁচামাল সংকটে অর্ধেক ক্যাপাসিটিতে উৎপাদন চালু রেখেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। তাই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি কীভাবে মিটছে, তার সঠিক কোনো জবাব নেই বিপিসি কিংবা সরকারের কাছে। শুধু মুখে সংকট নেই বলেই পার পেয়ে যাচ্ছে সবাই।

চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজ ভেড়ার গল্প

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিনিয়ত জ্বালানিবাহী জাহাজ ভেড়ার আপডেট পাঠানো হচ্ছে গণমাধ্যমে। সবশেষ ৩০ মার্চ বিকালে বন্দর থেকে পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে ৩২টি জাহাজই জ্বালানি খালাস করে চলে গেছে। বাকি চারটি জাহাজ থেকে বর্তমানে খালাস চলছে। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আরো তিনটি জাহাজ আসার শিডিউল রয়েছে। কিন্তু এতেও স্বস্তি আসেনি জ্বালানি খাতে। কারণ, এখন পর্যন্ত আসা ৩৬টি জাহাজের বেশিরভাগই গ্যাস-জাতীয় জ্বালানি নিয়ে নোঙর করেছে। এর মধ্যে লিকুইড জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। বন্দরের জলসীমায় আসা জাহাজের মধ্যে ১১টি জাহাজই এসেছে এলপিজি নিয়ে। এলএনজি নিয়ে এসেছে আটটি জাহাজ এবং আটটি এসেছে ডিজেল নিয়ে। হাই সালফার ফার্নেস অয়েল এসেছে চার জাহাজ, যুদ্ধের আগে ক্রুড নিয়ে এসেছে একটি জাহাজ। বাকিগুলো কনডেনসেট, বেস অয়েল ও রাসায়নিক নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে চারটি জাহাজের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানেও কোনো লিকুইড তেল নেই।

জ্বালানি সংকটের চিত্র

এদিকে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। রুগ্‌ণ পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের অর্ধেক তেল পাম্প শুকিয়ে গেছে। বাকি যেগুলো সচল আছে, সেগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থাকছে দিন-রাতের সব সময়। কয়েক ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করার পরও তেল পাওয়ার আগেই পাম্প খালি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। জ্বালানি সংকটে শহর এলাকায় রাস্তায় যানবাহন পর্যন্ত কমে গেছে। এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রেশনিং ছাড়াও বোতলে তেল সরবরাহ বন্ধ, যানবাহনের ডকুমেন্ট দেখে তেল বিক্রিসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বিপিসি। কিন্তু বিপুল চাহিদার কাছে সবকিছুই ভেঙে পড়েছে। ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে উৎপাদনেও টান পড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।

ভূউপরিভাগে যখন রেশনিংসহ নানা পরিকল্পনা করে সামান্য হলেও তেলের জোগান অব্যাহত রাখা হয়েছে; কিন্তু নদী ও সাগরের অবস্থা আরো করুণ। ছোট আকারের লাইটার জাহাজসহ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা প্রায় সব নৌযানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় ডিজেল। মেরিন ডিলারদের মাধ্যমে সাগর ও নদীতে ভাসমান বিশেষায়িত ট্যাংকার থেকে এই তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে নৌযানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নৌপথের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নেমেছে স্থবিরতা।

চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন নৌরুটে এক হাজার ২০০টি লাইটার জাহাজ চলাচল করে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে নদীপথেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। লাইটার জাহাজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিডব্লিউটিসিসি এর মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, শুধু এ খাতটি সচল রাখতে দৈনিক আড়াই লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ হাজার লিটারের কাছাকাছি। এতে জাহাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রায় সব ধরনের নৌযানের চিত্র একই। এর বাইরে জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু অকটেন, ডিজেল, পেট্রোলের মতো লো সালফার মেরিন ফুয়েলেরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বাঙ্কার সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাগুলোর কাছে যতটুকু লো সালফার মেরিন ফুয়েলের মজুত আছে, তা দিয়ে আগে কাটা ডিওর তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন করে কোনো ডিও কাটার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নিজেদের কাছে মজুত ও সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প থেকে পাওয়া সামান্য তেল দিয়ে এখন পর্যন্ত বাঙ্কারিং চালিয়ে যাচ্ছি। টেনেটুনে এপ্রিল মাসটা অতিবাহিত করা সম্ভব। এরপরও তেল না এলে ‘নো বাঙ্কারিং পোর্ট’ ঘোষণা করতে হবে চট্টগ্রাম বন্দরকে।

বিপিসির বক্তব্য

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের জিএম মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের চাহিদাকে বেজ ধরে বিপণন পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। মূলত ক্রেতাদের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ ভর করেছে। পাশাপাশি রুট লেভেলে কিছু কালোবাজারি হচ্ছে। এ কারণেই সংকট এত বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে বিপিসি, বিপণন প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের প্রশাসন সমন্বয় করে এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছে। প্রচলিত সোর্সের বাইরে বিকল্প সোর্স থেকেও জ্বালানি তেল আমদানি শুরু হয়েছে। খুব শিগগির এই সংকট কেটে যাবে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন