৭৪ দলিলে বিতর্কের মধ্যেই সীতাকুণ্ড ছাড়লেন সাব-রেজিস্ট্রার

৭৪ দলিলে বিতর্কের মধ্যেই সীতাকুণ্ড ছাড়লেন সাব-রেজিস্ট্রার

একদিকে সহকর্মীদের বিদায় সংবর্ধনা, অন্যদিকে বিতর্কিত ৭৪টি জমির দলিল সম্পাদন নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ— এমন এক দ্বিমুখী আলোচনার মধ্যে চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড ত্যাগ করেছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। নতুন কর্মস্থল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যোগদানের আগে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতি তাকে এই বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় ইয়াছিন নামে এক ব্যক্তির নামে ‘বিশেষ কমিশনের’ মাধ্যমে ৭৪টি জমির দলিল সম্পাদন করা হয়, যার মধ্যে কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই এক দিনে ৬৫টি দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত একজন ব্যক্তির নামে এত দ্রুত সময়ে দলিল নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, মালিকানার ধারাবাহিকতা, খতিয়ান-দাগের সামঞ্জস্য, নামজারি ও খাসজমির সম্পৃক্ততা দেখা হয়েছে কি না— তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

দলিলগুলোর আইনি বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে সীতাকুণ্ড দলিল লেখক সমিতির সহসভাপতি শাহ আলম মেম্বার বলেন, তদন্তের মাধ্যমে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের নামে এসব দলিল নিবন্ধিত হলো। এতে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সরকারের কোনো রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কি না স্পষ্ট হয়।

সাব-রেজিস্ট্রারকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোর যে রীতি রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় রায়হান হাবীবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে; এতে অনিয়ম সমর্থন করার কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব বলেন, জমির সরকারি রেকর্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে নামজারি এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বৈধ কাগজপত্র ছিল। প্রয়োজনীয় সমস্ত দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করেই প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে ভূমি আইন ও রেজিস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু নামজারি কিংবা খাজনার রসিদ দেখে জমির নিরঙ্কুশ মালিকানা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। বিশেষত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের জমি নিয়ে মালিকানা ও খাসজমির দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল দলিল, পূর্ববর্তী বায়ানামার ধারাবাহিকতা, বিশেষ কমিশনের আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত সরকারি রাজস্ব সঠিকভাবে আদায় হয়েছে কি না— তা উভয় পক্ষের নথি মিলিয়ে খতিয়ে দেখা জরুরি।

কর্মকর্তার বদলি হলেও বিতর্কিত এসব দলিলের সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। একদিকে রায়হান হাবীবের আইনি প্রক্রিয়ার দাবি, অন্যদিকে দলিল সম্পাদন নিয়ে ওঠা সন্দেহ— দুই প্রেক্ষাপটেই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও মূল নথি নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন