রাজশাহীর গোদাগড়ীতে ১০৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৫৫ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মচারী থাকার পরেও মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রী কলেজে জেনারেল শাখায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যঅনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাতের চিত্র সামনে এসেছে।
উপজেলার মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে কর্মরত ৫৫ জন শিক্ষক মিলে পাঠদান করিয়েছেন মাত্র ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষক অর্ধেকেরও বেশি এমন প্রতিষ্ঠানে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র আটজন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কের পাশে মাটিকাটা ইউনিয়নে মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এর কলেজ শাখায় ৫৫ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুর রহমান জানান, চলতি বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের মধ্যে রাজনীতির অতিরিক্ত ব্যস্ততা থাকায় শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষকরা যখন রাজনীতির পেছনে বেশি সময় দেন, তখন নিয়মিত ক্লাস নেওয়া বিঘি্নত হয় এবং সিলেবাস সময়মতো শেষ করা হতো না। কলেজটিতে অব্যবস্থাপনার কারণে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে না।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল রাজু গোদাগাড়ী পৌর যুবলীগের সভাপতি প্রভাষক আকবর আলিসহ অনেকেই পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় যুবক আবু তাহের এ ফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে বেতন-ভাতা নিয়মিত পান। তারপরও ৫৫ শিক্ষকের একটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৮ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে এটা দুঃখজনক । কর্তৃপক্ষের উচিত, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক কিংবা শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা তদন্ত করে বের করা।
এ বিষয়ে মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামিমা নার্গীস বলেন, `আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থিরা বেশির ভাগই অনিয়মিত। বেশির ভাগই পড়াশোনার পাশাপাশি কারখানা কিংবা শ্রমিকের কাজ করে। একাদশে শিক্ষার্থীরা কিছুদিন ক্লাস করে, কিন্তু দ্বাদশে উঠে ২০ শতাংশও ক্লাসে আসে না। অভিভাবকদের জানিয়েও লাভ হয় না। এ কারণে কলেজের ফলাফল এতো খারাপ আশা করি আগামিতে আমরা ভালো করব।'
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-a20cd2-720x405.webp)