বাজারে অগ্নিকাণ্ড পথে পথে বাধা

শেখেরহাটে আগুনের কাছে পৌঁছাতেই পারেনি ফায়ার সার্ভিস

শেখেরহাটে আগুনের কাছে পৌঁছাতেই পারেনি ফায়ার সার্ভিস
শেখেরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ছবি: আমার দেশ

দাউ দাউ করে জ্বলছে শেখেরহাট বাজার। স্থানীয়রা বালতি হাতে আগুন নেভাতে ছুটছেন আর ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। কিন্তু স্টেশন থেকে বের হওয়ার পরই শুরু হয় বাধার পালা। মহাসড়কে সরাসরি ওঠার পকেট গেট না থাকায় উল্টো পথে গিয়ে নিতে হয় ইউটার্ন। এরপর সীতাকুণ্ড বাসস্টেশনের যানজট এবং বড় দারোগাহাট ওজন স্কেলে পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে আগুনে এক সারির ছয়টি দোকান, একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি অটোরিকশা পুড়ে ছাই।

সোমবার রাত ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের শেখেরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের অপেক্ষায় না থেকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা নিজেরাই আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ পানি ছোড়েন, কেউ দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো গেলেও এক সারির ছয়টি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ফলামন মুন্নু মারমা জানান, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল।

ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু ফায়ার স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে সরাসরি ওঠার কোনো পকেট গেট নেই। ফলে গাড়ি উল্টো পথে মহাসড়কে উঠে উপজেলা সদর পর্যন্ত যায়। সেখানে ইউটার্ন নিয়ে আবার ঢাকামুখী লেনে প্রবেশ করে।

এরপর সীতাকুণ্ড বাসস্টেশন এলাকায় যানজটে আটকে পড়ে। পরে বড়দারোগাহাট ওজন স্কেলের পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারির কারণে আবারও বাধার মুখে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। স্বাভাবিক গতিতে এগোনোর সুযোগ না থাকায় পরে সরু গ্রামীণ সড়ক দিয়ে কয়েকটি মোড় ঘুরে শেখেরহাট বাজারে পৌঁছায়।

ফলামন মুন্নু মারমা বলেন, ‘আমরা ইচ্ছে করে দেরি করিনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু পথের সমস্যার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পণ্য, ব্যবসার পুঁজি ও আয়ের অবলম্বন নষ্ট হয়েছে। এক রাতের আগুনে তাদের সামনে এখন নতুন করে ব্যবসা দাঁড় করানোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শেখেরহাটের এ অগ্নিকাণ্ড জরুরি সেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাও সামনে এনেছে। ফায়ার স্টেশন থেকে মহাসড়কে সরাসরি প্রবেশের ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি গাড়িকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাসস্টেশন ও ওজন স্কেলের যানজট যুক্ত হলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এলাকাবাসীর দাবি, ফায়ার স্টেশনের সামনে মহাসড়কে দ্রুত কার্যকর পকেট গেটের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বড় দারোগাহাট ওজন স্কেল এলাকায় জরুরি সেবার গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, দুর্যোগের মুহূর্তে শুধু ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থাকলেই হবে না, আগুনের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর পথও নিশ্চিত করতে হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন