চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় ২৩ হাজার ৭৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সড়ক, সেতু, কালভার্ট, কৃষি, মৎস্য, বনাঞ্চল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, বসতঘরসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম এলাকার মানুষ এখনো সুপেয় পানি ও খাদ্যসংকটে রয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যনুযায়ী, বন্যায় ৮৩ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইটের খোয়া-বিছানো সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪টি সেতু, ২০টি কালভার্ট, ১৮৪ হেক্টর শস্যক্ষেত, ১৩৫ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার ৬৫০টি পুকুর, ১ হাজার ১৮০টি কাঁচা ঘর, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি কলেজ, ৫টি মাদ্রাসা, ১৫টি কমিউনিটি বিদ্যালয়, ১টি ক্লিনিক, ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২০টি মসজিদ, ৩টি মন্দির, ১৫৪ হেক্টর বনায়ন এবং ১৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন। এছাড়া প্রায় আধা কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চুনতি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, ‘৪ জুলাইয়ের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আমার বাড়ি ভেঙে গেছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানির ওপরেই বসবাস করছি। রান্নার পরিবেশ না থাকায় শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ নাহিদ আহমেদ জাকির বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত শুকনো খাবারের ১ হাজার ৫টি প্যাকেট এবং ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তি বন্যার্তদের সহায়তা করছেন। তিনি জানান, আরও ১৫ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার ২০০ বান্ডিল টিনের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে খালপাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এতে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় পানি নেমে গেছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

