ইউপি সদস্যের পরিবারেই পাঁচ ভাতাভোগী, বিধবা ভাতায় চাকরিজীবী বোন

ইউপি সদস্যের পরিবারেই পাঁচ ভাতাভোগী, বিধবা ভাতায় চাকরিজীবী বোন
ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার তালিকায় স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে বিভিন্ন ধরনের ভাতার কার্ড থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি সদস্যের আপন বোন সাবরিনা আক্তার পিংকির নামে বিধবা ভাতার এমআইএস নম্বর রয়েছে। তিনি বিধবা নন, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু লোকমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পিংকি চট্টগ্রাম সদর রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত। তার স্বামী একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।

ইউপি সদস্যের ছেলে মোহাম্মদ আবরার বিন মুনিরের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার এমআইএস নম্বর রয়েছে। আবরার প্রতিবন্ধী নন, একই ইউনিয়নের একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করছেন। ইউপি সদস্যের বড় ভাই মো. আলম উদ্দিনের ছেলে হাসান বিন আলম সাজিদের নামও প্রতিবন্ধী ভাতার এমআইএস নম্বরে রয়েছে। হাসানও প্রতিবন্ধী নন, রায়পুর এজাহারুল উলুম দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ইউপি সদস্যের পিতা মো. শামসুল আলমের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড এবং মা তাহেরা বেগমের নামে রয়েছে বয়স্ক ভাতার এমআইএস নম্বর।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আমার বোন সেলিনা আক্তার (১৯) জন্মগত বাকপ্রতিবন্ধী। প্রায় পাঁচ বছর আগে সমাজসেবা অফিস থেকে সে সুবর্ণ কার্ড পেয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে প্রায় এক বছর আগে আমরা সরাসরি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে তার নাম ভাতাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিন বলেন, আমার বোনের ডিভোর্স হয়েছে। তৎকালীন এসিল্যান্ড ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে পরিষদে আলোচনা করেই তাকে বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী কার্ড আছে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করেই তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে হলে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতা প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা ও সমন্বিত কাঠামো রয়েছে। ওয়ার্ড কমিটির সুপারিশের পর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে এমআইএস বা সরকারি ডাটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রিজোয়ান উদ্দীন বলেন, কেউ আগে ডিভোর্স হলেও পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে করলে বিধবা ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। এ ক্ষেত্রে বিধবা ভাতা বাতিল হয়ে যায়। তার ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে অবহিত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দেখব। অভিযোগের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন