কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ইউপি সদস্য কর্তৃক মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার তরুণ ফয়সাল মোহাম্মদ সেলিম চৌধুরী বাবু (৩২) আর নেই। হাসপাতালে দীর্ঘ দিন লড়াই করলেও অবশেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পৌনে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সেলিম বাবু ঈদগাও উপজেলার ইসলামপুর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড মধ্য নাপিত খালী এলাকার সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের মামা লিটন।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে মা দিলদার বেগম বিকালে স্ট্রোক করে বর্তমানে হাসপাতালে আছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিকে মৃত্যুর দুই দিন আগে নিহতের মা দিলদার বেগম বাদী হয়ে নুর মোহাম্মদকে প্রধান আসামি করে ছয় জনের বিরুদ্ধে ঈদগাঁও থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদা'র জানান, এজাহার পেয়ে পুলিশ জড়িতদের আটকের চেষ্টায় আছেন এবং এখন যেহেতু ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে সেহেতু এটি হত্যা মামলায় রুপ নেবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নৃশংস এ ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ হলেও স্থানীয় প্রশাসন অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে খুনি চক্রকে গ্রেপ্তারে প্রশাসন কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের লাশ এলাকায় ফিরিয়ে আনতে ময়নাতদন্তসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছিল। এদিকে তার মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠে এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে ভিকটিম সেলিম বাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাছ চুরিতে জড়িতের অভিযোগে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন করেন ইসলামপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। স্বামীকে রক্ষায় স্ত্রী এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এবং । পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

