আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নির্বাচনি জনসভায় আসলাম চৌধুরী

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ঐতিহাসিক মুহূর্ত থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতি আবারও কথা বলার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপজেলার বাড়বকুণ্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জাতি দিশেহারা অবস্থায় ছিল, ঠিক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, আমি মেজর জিয়া বলছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। এই বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। সেই আহ্বানেই সারা দেশের মানুষ জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একদলীয় শাসনের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন এবং জনগণকে রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী হিসেবে রাজপথে নেতৃত্ব দেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বেই এ দেশের মানুষ দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে।

২০০৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে আসলাম চৌধুরী বলেন, মইনুদ্দিন–ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক শাসনামলের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হয় এবং দেশ দীর্ঘ একদলীয় শাসনের কবলে পড়ে। এই টানা ১৭ বছরে আমি নিজে কারাবরণ করেছি, আমার সঙ্গে অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাগারে থেকেছে। আমরা কারাগারের ভেতর থেকেও মায়েদের কান্না শুনেছি, ঈদের দিনগুলোতে পরিবারহারা মানুষগুলোর বুকভাঙা বেদনা অনুভব করেছি।

তিনি আরও বলেন, একটি সন্তান কারাগারে গেলে একজন মা যে যন্ত্রণা অনুভব করেন, হাজার হাজার মানুষ বন্দি হলে সেই কষ্ট পুরো জাতির ওপর নেমে আসে। আমিও সেই নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী মানুষদের একজন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জনগণ আবারও কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। এই বিপ্লবের ফলেই আমি ২০ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পাই। সেদিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও প্রায় ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা আমাকে নতুন করে সাহস, শক্তি ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করেছে।

নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে ‘ধানের শীষ’ ও ‘ধানের শীষ উন্নয়নের মার্কা’ এমন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন