শেখ হাসিনাসহ পলাতক ১৭৮ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী

শেখ হাসিনাসহ পলাতক ১৭৮ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

ফেনীর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ১৭৮ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের কাছে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, তারা গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং শিগগির তাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও নেই।

এ প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-বি(১) ধারার ক্ষমতাবলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

নিহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম-এর ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শুসেন চন্দ্র শীল, নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দিদারুল কবির রতন, নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, রফিকুল ইসলাম খোকন, মো. মোস্তফা, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাইফুল ইসলাম পিটু, জিয়া উদ্দিন বাবলু, জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পাপ্পুসহ আরও অনেকে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর জন্য প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনা প্রদানের সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৫১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে চার্জশিটভুক্ত কয়েকজন আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপাল এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ-এর শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৭ আগস্ট তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...