রিকশাচালক জাকের হোসাইনের ছেলে মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন, জেলে বাবার সন্তান সিদরাতুল মুনতাহা এবং অসুস্থ আব্দু শুক্কুরের সন্তান সুলাইমান হাকিম জিপিএ ৫ পেয়েছে। দারিদ্র্য এবং চরম অভাবের সঙ্গে লড়াই করে তাদের এ গৌরবময় অর্জন প্রমাণ করে যে, অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রমের সামনে কোনো বাধাই টিকতে পারে না।
রিকশা চালিয়ে জাকের হোসাইন সংসারে এনে দেন দুমুঠো ভাত। আর একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন মা-বাবাকে উপহার দিয়েছে জিপিএ ৫। কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং বড়ইতলী আলী মিয়াজিপাড়ার মিরাজ ধুরুং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ১১৫৬ নম্বর পেয়ে জিপিএ ৫ অর্জন করে সে।
জাকের হোসাইন জানান, তার একমাত্র ছেলে মিরাজ। রিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ চলে না। প্রাইভেট শিক্ষক দিতে পারিনি। দুমুঠো খেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ছেলেটা ভালো ফল করেছে, এতেই তিনি খুশি।
একই বিদ্যালয় থেকে দক্ষিণ ধুরুং পেঁচারপাড়ার সিদরাতুল মুনতাহা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১০৫৯। মুনতাহার বাবা ছৈয়দ নুর একজন মৎস্যজীবী। স্ত্রীসহ পাঁচজনের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে কোনো রকমে সংসার চালান। সংসারে ছোট এক ছেলে আর তিন মেয়ে। মেধাবী ছেলের জন্য দোয়া ছাড়া কিছুই করতে পারেন না।
ধুরুং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদুল আলম বলেন, তার বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসিতে সাতজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর মধ্যে মিরাজ হোছাইন ও সিদরাতুল মুনতাহা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী চরম দুর্দশার মধ্যেও ভালো ফল করেছে। ওরা যদি আর্থিক সাহায্য পায় তাহলে আরো ভালো মেধার সাক্ষর রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, লেমশীখালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউছুফ জানান, তার বিদ্যালয়ে জিপিএ ৫ পাওয়া চার শিক্ষার্থীর মধ্যে জাহালিয়া পাড়ার সুলাইমান হাকিম রোজগারে অক্ষম বাবার সন্তান। আব্দু শুক্কুর প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। স্থানীয় একটি নুরানী মাদরাসায় তিন হাজার টাকার বেতনে কাজ করে সংসার চালিয়ে সন্তানকে মেধাবী বানানোর স্বপ্নে দিন কাটান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

