চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের সংকট, পদশূন্যতা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং আবাসন সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কনসালট্যান্ট ও মেডিকেল অফিসার মিলিয়ে অনুমোদিত ৩৮টি পদের মধ্যে বর্তমানে ছয়টি কনসালট্যান্ট ও ১১টি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজারো রোগীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ সার্বিক অবস্থা জানতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আমরা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কথা তাকে অবহিত করেছি। চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায়, স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সহকারী সার্জন ও ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্মরত ডা. আদনিন মওরিন প্রায় ছয় মাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। একইভাবে ডা. আফসানা জেরীন প্রায় ৯ মাস ধরে সংযুক্তিতে চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
এছাড়া মেডিকেল অফিসার ডা. অনিতা দাস গুপ্ত দুই মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণে কুমিল্লা বার্ড ইনস্টিটিউটে অবস্থান করছেন। ডা. শেগুফতা মিশকাত মোকাররমা প্রায় এক বছর ছয় মাস ধরে সংযুক্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে কয়েকজন চিকিৎসক বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে রয়েছে আবাসন সংকট। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বেশ কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, বিভিন্ন কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে অনেক চিকিৎসক এসব ভবনে বসবাসে আগ্রহী নন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক ভবনগুলো কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায়, কর্মরত চিকিৎসকদের একটি অংশ উপজেলা সদর কিংবা চট্টগ্রাম শহর থেকে যাতায়াত করেন। এতে জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসকদের দ্রুত উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক কর্মস্থলে না থাকায়, অনেক সময় দূরদূরান্ত থেকে এসে চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে সেগুলোর অনেকটাই অকার্যকর হয়ে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও সোনোলজিস্ট না থাকায় রোগীরা এ সেবা পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকটসহ নানা বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

