চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় কাপড়ের দোকানের কর্মচারী মিনহাজের ওপর বর্বরোচিত হামলায় কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার অন্যতম আসামি সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র্যাব-৯ সিলেটের যৌথ অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও র্যাব জানায়, চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় মাস্টারপুল এলাকার বাসিন্দা মিনহাজ পেশায় একজন কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। গত ৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে কাজের উদ্দেশে রিকশায় কোতোয়ালি থানার জহুরুল হকার্স মার্কেটে যাচ্ছিলেন তিনি। রিকশাটি কোরবানীগঞ্জ বলুয়াদীঘির পশ্চিমপাড়ের মেসার্স মাস্টার এন্টারপ্রাইজের সামনে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হাতে থাকা ধামা, কিরিচ, ছোরা নিয়ে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মিনহাজকে গুরুতর জখম করে। হামলায় তার দুই হাত, দুই পা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম হয়। দুর্বৃত্তরা তার ডান হাতের কবজিও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
ওই দিনই মিনহাজের বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়।
র্যাব-৭ জানায়, ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়াতদন্ত চলছিল। এর মধ্যে গোপনে খবর পাওয়া যায়, মামলার ২ নম্বর আসামি সবুজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ইমামপাড়া এলাকায় লুকিয়ে আছেন। খবরের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-৭ ও র্যাব-৯-এর যৌথ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে সবুজকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া সবুজের বাড়ি চট্টগ্রামের ব্রাহ্মণপাড়া থানার বড় ধুশিয়া এলাকায়। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাক সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ঘটনাটি ছিল নৃশংস ও পরিকল্পিত। অভিযুক্ত আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

