কুমিল্লার অর্ধশতাধিক গ্রাম দুই দিন ধরে অন্ধকারে

এম হাসান, কুমিল্লা

কুমিল্লার অর্ধশতাধিক গ্রাম দুই দিন ধরে অন্ধকারে

গত দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লা জেলার ১৭ টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলো। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে বিদ্যুৎ সংযোগ । এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্ধকারে কিংবা চার্জার লাইট ও মোমবাতি জ্বালিয়ে। এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ।

পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত করা হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। বুধবারেও মাঝারী ধরনের বর্ষণ হয়েছে কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গায় । কালবৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর ৬ উপজেলায় বিদ্যুত সংযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত দুই দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর অধীনে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় মোট ৭১ টি খুঁটি ভেঙ্গেছে। ১০২৫টি স্পটে বৈদ্যুতিক সংযোগের উপরে গাছ পড়েছে। ৫৫০টি মিটার ভেঙেছে এবং ৭৩৮ টি স্পটে তার ছিড়েছে। ছয় উপজেলায় ৩৫টি মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, গত ২৬ এপ্রিল এর পর আমরা সকল সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু ২৮ তারিখের ঝড়ে আবারো এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়েছে। আমরা সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিন রাত কাজ করছি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হবে । তবে যেসব এলাকায় খুঁটি একেবারে ভেঙে পড়েছে ওই জায়গায় কিছুটা সময় লাগবে ।‌

বরুড়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রীশু কুমার ঘোষ জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ৮টি খুঁটি ভেঙে গেছে, ৩০০ টি গাছ উপড়ে পড়েছে, ৪০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তিনটি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩০০ জায়গায় তার ছিড়ে গেছে । যার কারণে ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত আকারে দেওয়া হয়েছে । কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছে ।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর চান্দিনা, দেবিদ্বার,মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায়ও বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় আট ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকে এই এসব এলাকার গ্রাহকরা। পরে বিকেল পাঁচটায় জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি সংস্কার করা হয় বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান জানান, ঝড়ের পর থেকে আমাদের টিম সব জায়গায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুধবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, পুরো উপজেলায় সড়কের উপর এবং বিদ্যুতের খুটির উপর গাছপালা পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে । বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ সব জায়গায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হবে যদি নতুন করে কোনো কালবৈশাখী ঝড় না হয়। উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রাম’সহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান দৈনিক আমার দেশকে বলেন, উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া পাবলিক গার্লস হাই স্কুল কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে ‌।

কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের ৪টি সমিতি মোট ক্ষয়ক্ষতি জানতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, কুমিল্লায় ২৮ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুনায়েদ কবির খাঁন আমার দেশকে বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার ১০০ হেক্টর জমি ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। ৪-৫ দিন পর বলা যাবে ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন