ফুটপাত দখল-অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল সীতাকুণ্ড

ফুটপাত দখল-অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল সীতাকুণ্ড
ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও পর্যটকের বাড়তি চাপে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে দীর্ঘস্থায়ী যানজট। ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরে ফুটপাত দখল, যত্রতত্র সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল পার্কিং, ভাসমান যানবাহনের চাপ এবং ভাঙা-খোলা ড্রেনের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রধান জংশন ও বাজার এলাকায় দিনের বড় সময় যানজট লেগে থাকায় শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফুটপাত দখলে থাকায় অনেক পথচারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সপ্তাহান্তে পর্যটকের বাড়তি চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, পৌরসভার পাশাপাশি এলাকার ১৯টি লাইনে প্রায় দুই হাজার সিএনজি চলাচল করে। এর বাইরে চার-পাঁচ হাজার অটোরিকশা রয়েছে। নির্ধারিত স্ট্যান্ডের বাইরে সড়কে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভাসমান যানবাহন এবং যত্রতত্র মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের কারণে যানজট তীব্র হচ্ছে। যানজট নিরসনে গত ১৫ দিনেও বাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। তাছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও করেন রফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অস্বীকার করে সীতাকুণ্ড ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মমতাজের রহমান আমার দেশকে বলেন, চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঠিক নয়। তিনি বলেন, পৌরসদরের সড়কের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ও পর্যটকের চাপ সামলাতেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। যানজট নিরসনে থানা প্রশাসন, পৌরসভা, বাজার কমিটি ও ট্রাফিক বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর আমার দেশকে বলেন, সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল সুশৃঙ্খল রাখার মূল দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। তবে ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা চাইলে পৌর সদরের শৃঙ্খলারক্ষায় থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

এদিকে, যানজটের পাশাপাশি বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশাও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাজার কমিটির অভিযোগ, অনেক ড্রেনের কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে গেছে এবং কোথাও কোথাও ড্রেন খোলা অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি পৌরসভাকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙা স্ল্যাব ও উন্মুক্ত ড্রেনের কারণে পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

অন্যদিকে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা ফুটপাতেও পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দোকানের মালামাল ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের দিকে চলে আসায় অনেককে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

সীতাকুণ্ড পর্যটন এলাকা হওয়ায় সপ্তাহান্তে যানবাহনের চাপ আরও বাড়ে। বাজার কমিটির দাবি, এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে এবং শুক্র ও শনিবার প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক আসেন। পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকবাহী গাড়ির চাপও পৌরসদরের সড়কে পড়ে।

তবে এবার সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম। তিনি আমার দেশকে বলেন, পৌরসদরের যেসব স্থানে ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে গেছে এবং খোলা ড্রেন রয়েছে, সেসব স্থানে নতুন স্ল্যাব বসানো হবে, যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে। মহাসড়কের উভয় পাশে পথচারীদের চলাচলের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে থাকলে শিগগিরই অভিযান চালিয়ে তা দখলমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। তাদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নির্ধারিত স্ট্যান্ডের বাইরে পার্কিং বন্ধ, ভাসমান যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পর্যটকবাহী গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং এবং ভাঙা ড্রেন সংস্কার করা গেলে পৌর সদরের দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর সামনে দিনের পর দিন চলা এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চান সীতাকুণ্ডবাসী। এখন তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে প্রশাসন, পৌরসভা, থানা ও ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে মাঠে নামবে এবং ঘোষিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন