নিজের চাচা, আওয়ামী লীগ সরকার আমলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি ভুয়া কাগজপত্র সাজিয়ে দখলের অভিযোগে উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার শ্যালক খায়রুল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর স্বপ্রণোদিত হয়ে দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয় একদিনের একটি অভিযানও চালিয়েছে। রোববার দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ও টিম লিডার মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
কক্সবাজারের আলোচিত উপজেলা উখিয়ায় ২ একর ১০ শতক জবর-দখলকৃত ওই জমি নিয়ে ভুক্তভোগী রফিকুল আলম মাহমুদের অভিযোগ, তার বাবা মরহুম রশিদ আহমদ ২০০০ সালে বৈধভাবে জমিটি ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
কিন্তু ২০০৫ ও ২০০৯ সালে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ও জাল দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালান উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়ার বাসিন্দা সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ পাইন্যাশিয়া এলাকার বাসিন্দা খায়রুল আমিন রুবেল। জাহাঙ্গীর আলমের আপন চাচা হলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
এদিকে দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে তদন্তে যাওয়া দুদক টিম সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এবং সরেজমিনে গিয়ে জমিতে নির্মিত ১০টি পাকা দোকানঘর দেখতে পান।
ওই সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক আহমদ দুদক টিমের সঙ্গে উপস্থিত থেকে বলেন, এই জমির প্রকৃত মালিক রশিদ আহমদের পরিবার। আমি এলাকাবাসীসহ বহুবার দেখে এসেছি তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। এখানে জালিয়াতির মাধ্যমে দখলচেষ্টার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


