আ.লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগের এক কর্মীর নাম পাওয়া গেছে ‘জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশন’র তালিকায়। ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত গেজেট মার্চ ২০২৫ এর ৭৫ নাম্বার এ তালিকাভুক্ত হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার বাকসার গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে ও ছাত্রলীগের একজন সক্রীয় কর্মী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর ১৮ জুলাই সকালে হেলাল উদ্দিনকে মারধর করে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুর কালামের সমর্থীত বাকসারের লোকজন। এ বছরের ২৪ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নং আমলি আদালতে ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন মারধরের শিকার হেলালের ভাই জালাল উদ্দীন।
মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ১ নাম্বার আসামি আসরাফুল দৈনিক আমার দেশকে বলেন, হেলাল গত নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী রাজি মোহাম্মদ ফখরুলের কাজ করেছে আর আমরা সাবেক এমপি আবুল কালাম সাহেবের ঈগল প্রতীকের কাজ করি। এখন শুনি সে না কি জুলাই আন্দোলনে আহত হইছে! এটা কিভাবে সম্ভব? সরকার তদন্ত করলে প্রকৃত সত্যি বের হয়ে আসবে।
গুনাইঘর উত্তর ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মাহমুদ দৈনিক আমার দেশকে বলেন, বাকসার গ্রামের হেলাল উদ্দিনের একটি প্রত্যয়নপত্র দিতে বলেছে ইউএনও স্যার। কিন্তু সঠিক তথ্য দিয়ে প্রত্যয়নপত্র দিতে পারিনি, আমি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারিনি।
অভিযোক্ত হেলাল উদ্দিন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, আমি আন্দোলন করিনি, ছাত্র আন্দোলনের আগেই আমাকে সাবেক এমপি আবুল কালামের লোকজন মারধর করেছে। ৬ মাস টানা হসপিটালে ছিলাম। আগে বিএনপি করতাম এখনো করি কিন্তু মাঝে সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের সংসদ নির্বাচনে নৌকার কাজ করি।
হেলাল উদ্দিনের বড় ভাই আলাউদ্দিন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, আমার ভাইকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়েছে এমপি কালামের লোকজন। আমার ভাই আগে বিএনপি করতেন পরে রাজি মোহাম্মদ ফখরুলের নির্বাচনে নৌকার কাজ করেন।
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, বাকসার গ্রামের হেলাল নামে কেউ বিএনপি বা ছাত্রদল করে এমন তথ্য আমার কাছে নেই।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেবিদ্বারে আহত ও নিহতের প্রতিনিধি তানভির হাসান তুসার দৈনিক আমার দেশকে বলেন, হেলাল উদ্দিন নিজেই আমার কাছে স্বীকার করছেন যে ওনি আন্দোলনে আহত হননি এবং আন্দোলন করেননি।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ দৈনিক আমার দেশকে বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহত নিহতদের তালিকা আমরা করিনি, করেছেন সমন্বয়করা। যদি কেউ সমন্বয়কদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে স্বাস্থ্য সচিব বরাবর আবেদন করলে তার নাম বাদ দেয়া সম্ভব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

