রুমায় বাঙালি হত্যা সন্দেহে আটক ১২, শহরে বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান

রুমায় বাঙালি হত্যা সন্দেহে আটক ১২, শহরে বিক্ষোভ
ছবি: আমার দেশ

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অজ্ঞাতনামা এক বাঙালি ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রুমা উপজেলার গ্যালেংগা ইউনিয়নের জৈতুন পাড়া সংলগ্ন জঙ্গল থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করার পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার শার্টের পকেট থেকে একটি বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডে সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, খবর পেয়ে গ্যালেংগার জৈতুন পাড়ার জঙ্গল থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।

তিনি আরও জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এই হত্যাকাণ্ডে মূল রহস্য উদঘাটনে ওই স্থানে পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় রুমা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, গ্যালেংগা ইউনিয়নের জৈতুন পাড়ায় দুষ্কৃতকারী সন্ত্রাসীদের হাতে ওই বাঙালি ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তির দাবিতে বিকেলে বান্দরবান শহরের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, যুব পরিষদ ও মহিলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। তিনি অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়ে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের কোন সরকার আজ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ দেয়নি। তাই পাহাড়ে সন্ত্রাসীরা মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। অভিযান চালালে জেএসএস, কেএনএফ, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা ভারত, চীন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। তাই পাহাড় থেকে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্প পুন: স্থাপনসহ বিজিবির নতুন চৌকি স্থাপনের দাবি জানান।

সমাবেশে জেলা পরিষদ সদস্য নাছির উদ্দিন, ছাত্রনেতা আসিফ ইকবালসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন