হাতিয়ায় বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাড়ছে দুর্ভোগ

জিএম ইব্রাহীম, হাতিয়া (নোয়াখালী)

হাতিয়ায় বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাড়ছে দুর্ভোগ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধে ধস। এতে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চল। আমার দেশ

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ধসে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও জমির ফসল। রাতে আরো বড় জোয়ারে পরিস্থিতির অবনতি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ধসে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গত শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বাঁধের একটি অংশ ধসে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্লাবিত এলাকাগুলোতে অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায়, গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। বাড়িঘর, উঠান ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছিল। বিষয়টি আমরা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের চাপেই বাঁধ ধসে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দিনের জোয়ারের উচ্চতা তুলনামূলক কম থাকলেও অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি। রাতে আরো বড় জোয়ার আসার কথা রয়েছে। পানির উচ্চতা আরো বেড়ে গেলে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা রাতের জোয়ার নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা অংশে জিও ব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে, রাতের জোয়ারে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরো বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এজন্য একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ধসে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানটি আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই ভাঙা বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন