কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। বন্যাকে কারণ হিসেবে দেখালেও সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম ও মুরগি—প্রায় সব পণ্যের দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ একটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ১১ টাকার বেশি। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ১৮৫ টাকা ছিল। সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি। এছাড়া সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি।
নগরীর ২ নম্বর গেট কর্ণফুলী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০, কাঁকরোল ১০০, ধুন্দল ৮০-১০০, কচুর লতি ৮০-১০০, শসা ৭০-১২০, বরবটি ১০০-১২০ কেজি দরে। কিন্তু কাঁচামরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে।
একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২১০ টাকায়। সোনালি মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৪০-৩৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৪০, দেশি মুরগি ৬৫০-৭৫০, গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। মহল্লার ছোট সবজির দোকান, ভ্যানগাড়ি ও আবাসিক এলাকায় সবজির দাম আরো বেশি।
চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা বন্যাসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকেন। কিন্তু সে দাম আর কমে না। প্রশাসনকে নিয়মিত বাজারে তদারকির আহ্বান জানান তিনি।
সবজির বাজারের পাশেই মুরগি বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ সগীর। তিনি বলেন, বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রেতারা সবজি ও মাছের দাম বেশি থাকায় অনেকে মুরগি ও ডিম কেনা বাড়িয়েছেন। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম। সব মিলিয়ে মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা বাড়তি।
সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়লেও দামের ওপর তার প্রভাব পড়েনি। চাহিদাভেদে কিছু কিছু মাছের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে রুই, কাতলা, পাবদা বা তেলাপিয়া মাছ গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আরো ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ছোট রুই (দেড় কেজির বেশি) ৩৫০-৪০০ টাকা, মাঝারি রুই ৪০০-৪৮০, ছোট কাতল ৩২০-৪৫০, পাঙাশ ২২০-৩৫০, বাগদা চিংড়ি ৮০০-১০০০, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০, শিং ৪০০-৬০০, সিলভার কার্প ২০০-৩০০, তেলাপিয়া ২২০-২৮০, চাষের পাবদা ৩৫০-৪০০ ও হাওরের পাবদা ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেদের মাছ আহরণের খরচ বেড়েছে। যার প্রভাব মাছের বাজারের ওপর পড়েছে।
দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ অন্যান্য মসলারও। চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৩, আদা ৯৫ এবং রসুন ১১৫ টাকা কেজি দরে।
খুচরা বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। মেহেরপুরের কালো রঙের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গার পরিষ্কার ও লাল রঙের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।
এ বিষয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বন্যা একটা সুযোগ ভোক্তাদের পকেট কাটার জন্য। নানা অজুহাতে তারা সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করে। বন্যার প্রভাব সবজিতে পড়লেও মাছ, মাংস, সবজিসহ অন্য জিনিসের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

