চিতায় পোড়ানোর আগেই লাশ উদ্ধার, আটক ৬

চিতায় পোড়ানোর আগেই লাশ উদ্ধার, আটক ৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর রমেশ কবিরাজ বাড়ির একটি শ্মশানে তড়িঘড়ি করে চিতায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার সময় রোববার দিবাগত রাত সঞ্জয় দে (৪৫) নামের এক সনাতনী ধর্মের যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ সঞ্জয় দে’র উপর হামলা পরবর্তী বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার পর রাতে মৃতের স্বজনরা তড়িঘড়ি করে লাশ দাহ করার চেষ্টা করলে পুলিশ শ্মশান থেকে সঞ্জয় দের লাশ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল বারী জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হসপিটাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপন দে, রাজন দে, স্বপন কুমার দে, শকংর দে, সুজন দে ও স্থানীয় চৌকিদার মো. রাসেল নামের ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

মৃত সঞ্জয় দে চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর রমেশ কবিরাজ বাড়ির মৃত অরুণ চন্দ্র দে’র ছেলে ও চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের সহকারী ছিলেন।

নিহত সঞ্জয় দের স্ত্রী শান্তনা রানীর অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৮ জুলাই তার চাচা এবং চাচাতো ভাইয়েরা তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। দীর্ঘদিন সুচিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশের দফাদার খোরশেদ আলম জানান, সঞ্জয়ের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে কয়েকদিন আগে তাকে তাকে মারধর করে চাচাতো ভাইয়েরা। ঢাকায় চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানা থেকে লাশ যেন দাহ করা না হয় সে জন্য তাদের বাড়িতে গিয়ে বলার পরও স্বজনরা আমাদের কথা শুনেনি। পরে পুলিশ চিতা থেকে লাশ উদ্ধার করে।

নিহত সঞ্জয়ের স্ত্রী শান্তনা রানী জানান, বাড়িতে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে ঝামেলা হওয়ায় আমার স্বামী সঞ্জয় আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসে রোববার বিকেলে আমার স্বামী মারা গেলেও আমাকে কোনো খবর না দিয়ে তড়িঘড়ি লাশ দাহ করার চেষ্টা করে আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। সঞ্জয়কে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী জানান সঞ্জয়ের স্ত্রীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে দাহ করার আগে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সঞ্জয়ের স্ত্রী লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃত ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন