নবীনগর থানার সামনে বিক্ষোভ

বিএনপির নির্বাচনি অফিসে আগুন, ১০ মাস পর মামলায় দলীয় নেতারা

বিএনপির নির্বাচনি অফিসে আগুন, ১০ মাস পর মামলায় দলীয় নেতারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনার ১০ মাস পর স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিজ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে নবীনগরের স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির এজাহার জমা দেন নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ মোল্লা। বিচারক এজাহারটি গ্রহণ করেছেন। মামলায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির ১১ জন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন মাইনু এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর একইছড়া বাজারে শতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহড়া দেয়। পরে তারা পেট্রোল দিয়ে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়সহ তিনটি মুদি দোকান ও একটি ওষুধের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আনুমানিক ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন বাদী।

এদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় নবীনগর পৌর সদরে একটি ঝটিকা প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার দীর্ঘ ১০ মাস পর শান্ত নবীনগরকে অশান্ত করতে এবং বিএনপি নেতাদের হয়রানি করতেই এই সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার না করা হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে, আগুন লাগার কারণ ও মামলার সত্যতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, ঘটনার দিন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই বাজারে আগুন লেগেছিল। সে সময় স্বয়ং মামলার বাদী আবু হানিফ মোল্লাও উপস্থিত লোকজনের সামনে শর্ট সার্কিটের আগুনের কথা বলেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ মামলায় অভিযুক্ত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মূলত ওই নির্বাচনের সময়কার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও মনস্তাত্ত্বিক বিরোধের জের ধরেই দীর্ঘ ১০ মাস পর এই প্রতিহিংসামূলক মামলার জন্ম হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন