আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ফেনীতে রেমিট্যান্সে ঈদের হাসি শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে

এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী

ফেনীতে রেমিট্যান্সে ঈদের হাসি শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে

প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা ফেনীতে রেমিট্যান্সে ঈদের হাসি ফুটলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এ জনপদের লাখো মানুষ পাঠাচ্ছেন কষ্টার্জিত অর্থ। সেই রেমিট্যান্সে বদলে গেছে জেলার চেহারা, গড়ে উঠেছে দালানকোঠা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

আর রমজান ও ঈদ এলে এ অর্থপ্রবাহ যেন পায় নতুন গতি। হাসি ফোটে স্বজনদের মুখে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। আলো ঝলমলে ফেনী শহর, বিপণিবিতানগুলোতে কোলাহলÑএসব কিছুর নেপথ্যে যাদের অবদান তারা হলেন প্রবাসী। তাদের ঘামঝরা কষ্টার্জিত অর্থ হাসি ফোটাচ্ছে দেশে থাকা স্বজনদের মুখে।

বিজ্ঞাপন

ফেনীতে সারা বছর রেমিট্যান্স এলেও ঈদকে ঘিরে তা বেড়ে যায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসীরা পাঠান বাড়তি টাকা। ঈদের পোশাক, জাকাত-ফিতরা, আত্মীয়স্বজনকে উপহার, সবকিছুতে ভরসা সেই প্রবাসী আয়।

শহরের গার্ডেন সিটিতে ঈদবাজার করতে আসা প্রবাসীর স্ত্রী আফসানা আক্তার জানান, প্রবাসী থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠানোর কারণে সন্তানসহ তার জন্য ঈদবাজার করতে পারছেন। তৌফিক নামের প্রবাসীর আরেক সন্তান বলেন, তার বাবাকে সে ধন্যবাদ জানাতে চায়। বাবা টাকা পাঠানোর কারণে তার মুখে ঈদের হাসি ফুটছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঈদ বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার ব্যবসায়ীরা। চিন্তার ভাঁজ প্রবাসীদের স্বজনদের মুখেও। শুধু পরিবার নয়, ঈদকেন্দ্রিক এ অর্থপ্রবাহে চাঙা হয় স্থানীয় সামগ্রিক অর্থনীতি। ব্যাংকগুলোতে দেখা গেছে, মানুষের উপচেপড়া ভিড়। চলতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও এবারের ঈদেও রেমিট্যান্স বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম বলেন, বছরের মধ্যে রমজান মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যায়। প্রবাসীরা সবাই চেষ্টা করে অন্তত এ মাসে অন্য যেকোনো মাস থেকে টাকা একটু করে হলেও বেশি পাঠাতে।

একই ধরনের তথ্য দিলেন, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা দিদার মিয়া। তিনি জানান, ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৩ জন বিদেশ গমনেচ্ছু ছিলেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে এ জেলা ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু বৈধ চ্যানেলে ৮৭৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে এ জেলায়।

গত বছর ঈদের মাস মার্চে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছিল। যা পরের মাস থেকে ১৮ মিলিনয়ন মার্কিন ডলার বেশি। চলতি রমজান মাসে এটি আরো বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করছে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বৈধ চ্যানেলের বাইরে আরো নানা চ্যানেলেও আসে প্রবাসী আয়। যা বৈধ চ্যানেল থেকে কয়েকগুণ বেশি। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসায় সরকারও পাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে মিলন। কিন্তু প্রবাসীদের জন্য ঈদ মানে দূর দেশে নির্জন কর্মদিবস। তবুও প্রিয়জনের হাসি তাদের প্রেরণা। তাই বলা যায়, আলো ঝলমলে বাজার আর পরিবারগুলোর হাসির পেছনে জ্বলজ্বল করছে অগণিত প্রবাসীর ঘামঝরা পরিশ্রম।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন