প্রসূতির মৃত্যু: নিউরোলজির শিক্ষার্থী দিয়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

প্রসূতির মৃত্যু: নিউরোলজির শিক্ষার্থী দিয়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আল বারাকা হসপিটালে (সাবেক ভিশন হসপিটাল) অস্ত্রোপচারের পর পপি আক্তার (২১) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালটির লাইসেন্স না থাকা এবং অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার পরিচালনার অভিযোগ ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে লাশ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহত পপি আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রসবব্যথা উঠলে পপি আক্তারকে আল বারাকা হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করায়।

৭ সেপ্টেম্বর পপি ও তার নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পর থেকেই পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় আল বারাকা হসপিটালে গেলে অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কেটে দেওয়া হয়। এ সময় কোনো সমস্যা নেই বলে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

স্বজনেরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর পপিকে আইসিইউতে (intensive care unit) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় তাকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

পপির মৃত্যুর পর স্বজনেরা লাশ নিয়ে আল বারাকা হসপিটালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা অস্ত্রোপচারে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান মনির চৌধুরী। পরে স্থানীয়ভাবে পপির লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আল বারাকা হসপিটাল দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাসপাতালটিতে গাইনি চিকিৎসক না থাকা সত্ত্বেও প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নিউরোসার্জন হিসেবে পরিচিত ডা. আরিফুজ্জামান (শুভ) বর্তমানে নিউরোলজি বিষয়ে শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল কাফির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা ও রোগীর স্বজনদের চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আল বারাকা হসপিটালে লোকজনের হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন