কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক খুন হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে। বৃহস্পতিবার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্বপাশে দোকান থেকে তেল নিতে গিয়ে শাকতলা গ্রামের মৃত রতনের ছেলে আসিফ ও একই গ্রামের নয়নের ছেলে বাদশার মোটরসাইকেলের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে একজনের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত ফোন করলে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে তার গ্রামের মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও প্রান্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন বাজারে এসে অবস্থান নেন। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়।
রাজিব গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাকতলা গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনেকে বলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কা আসলে সমস্যা নয়, মাদকের বিরোধিতার কারণেই খুন করা হয় হৃদয়কে।
নিহত হৃদয়ের ভাই ফারুক হোসেন বলেন, আমার ভাই সিএনজি অটোরিকশাচালক। আজ তার ইনকাম কম হয়েছে বলে সন্ধ্যায় আমার কাছে থেকে চা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, হৃদয়কে রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বুকের ডানপাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহতের স্বজনেরা বলেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০০৬ সালে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করে। ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা। আমরা হৃদয় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, কী কারণে হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

