চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেয়ার প্রতিবাদে ৩০ জুন গণ সমাবেশ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেয়ার প্রতিবাদে ৩০ জুন গণ সমাবেশ

চট্টগ্রাম বন্দর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা প্রদান এবং মিয়ানমারের রাখাইনে তথাকথিত ‘মানবিক করিডোর’ দেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্কপ নেতারা বলেন, এনসিটি ইজারা ও করিডোর ইস্যু জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হুমকি। এতে শ্রমিক সমাজসহ জনগণের উদ্বেগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ইজারা বাতিল, পতেঙ্গা টার্মিনালের কার্যকারিতা মূল্যায়ন, রাখাইন করিডোর পরিকল্পনা পরিহার, কৌশলগত বিষয়ে শ্রমিক ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২০ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বন্দর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৩০ জুন চট্টগ্রাম বন্দর গেইটে শান্তিপূর্ণ গণ সমাবেশ।

লিখিত বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল-জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু এনসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার জনগণের কণ্ঠকে অবজ্ঞা করছে। তিনি বলেন, গত ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ‘প্রতিহত করুন’ শব্দটি আন্দোলনকারীদের হুমকি দেয়ার শামিল, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।’

শ্রমিক নেতারা বলেন, এনসিটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক এবং কৌশলগত কনটেইনার টার্মিনাল, যা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ও শতভাগ বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় চলছে। এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ কনটেইনার ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ হারাবে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।

তারা বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল রেড সী গেটওয়েকে ইজারা দেয়ার পর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং এর সক্ষমতার মাত্র ১০-১২ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। এনসিটির ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাখাইন করিডোর প্রসঙ্গেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। তারা বলেন, মানবিক সহায়তার আড়ালে করিডোর দেয়ার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক জটিলতায় পড়তে পারে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের এস কে খোদা তোতন, স্কপের যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন, শ্রমিক ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার নেতা মহিন উদ্দিন, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন