পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে ফেনীর সেই ৯২ শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী

পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে ফেনীর সেই ৯২ শিক্ষার্থী
ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: আমার দেশ

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই ৯২ শিক্ষার্থী। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ‘আমার দেশ’সহ স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীসহ সংশ্লিষ্টদের চরম গাফিলতিতে বোর্ড ফি জমা না হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়।

পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষার্থীর এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। তাদের পরীক্ষার বোর্ড ফি বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য গত ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে স্কুলের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মিহির ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ওই টাকা বোর্ডে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেননি প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ফেনীর অন্যান্য বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র না আসায় বিষয়টি সবার নজরে আসে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, মানবিক বিভাগে ১৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৫ জন এবং ৩৭ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থীসহ মোট ৯২ জন অংশ নেওয়ার কথা।

কয়েক দিন আগেই ফেনীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দিলেও এই বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। পরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড নিশ্চিত করে, ওই শিক্ষার্থীদের বোর্ড ফি পরিশোধ করা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে জরুরি সভায় বসেন শিক্ষকরা। তারা স্কুলের কোচিংয়ের টাকা থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দ্রুত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এরপরই প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ওই দিন দুপুরে শিক্ষা বোর্ডে যান। সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা করে তারা প্রবেশপত্র পাওয়ার আশ্বাস পেলেও বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীল অনেকের কাছে দেনাগ্রস্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পাওনাদারদের এড়িয়ে চলতে তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। বিদ্যালয়ে নিজ দায়িত্বেও তিনি অনিয়মিত ছিলেন।

এসব বিষয় জানা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দিয়েছেন এবং বোর্ড ফি জমা হওয়ার বিষয়টি যাচাই করেননি। বিষয়টি মীমাংসা না হলে প্রধান শিক্ষক কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারতেন না।

বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বোর্ড ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব অফিস সহকারীর ওপর ছিল। কিন্তু তিনি টাকা জমা দেননি এবং বিষয়টি কাউকে জানাননি। পরে যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর থেকে অফিস সহকারীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।

শেষে জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তার সার্বিক সহযোগিতায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সোমবার এ ৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন