রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে কেটে ফেলা হলো দেড় হাজার গাছ

সেলিম উদ্দীন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে কেটে ফেলা হলো দেড় হাজার গাছ
কলাউজান সড়কের দুপাশে কাটা অবস্থায় পড়ে আছে কয়েকশ গাছ। ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার গাছগাছালি ভরা বৈচিত্র্যময় পরিবেশকে ধ্বংস করে উপজেলার একটি সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। এ কাজ সম্পূর্ণ করতে গিয়ে রাস্তার উভয় পাশে থাকা জমির টপসয়েল ও ১ হাজার ৫০০ এর অধিক গাছ কেটে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। একটি বা দুটি নয়, ১ হাজারের অধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া আরো ৫০০ গাছ কেটে ফেলা হবে। উপজেলা নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করতে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক মাস আগে থেকে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নেয়াজের টেক থেকে লেইঙ্গা পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজারের অধিক গাছ কাটা হয়েছে এবং লেইঙ্গা পুকুরপাড় থেকে কানুরামবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাছ এখনো কাটা হয়নি।

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্তের কাজে মাটি জোগান দিতে গিয়ে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। জোর করে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্র দিয়ে কয়েকফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিডিডব্লিউএসপি কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই রাস্তা প্রশস্তকরণ বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটারের এ রাস্তা প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। কৃষকের ফসলি জমি কেটে ফেলা বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ আমার দেশকে বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাছ কাটা হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ কাটা হয়েছে সেসব স্থানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে। জোর করে ফসলি জমি থেকে মাটি ও গাছ কেটে ফেলা বিষয়ে কারো কাছ থেকে অভিযোগ পায়নি, পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাছ কেটে ফেলা বিষয়ে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূইয়া বলেন, গাছগুলো উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে কি পরিমাণ গাছ রয়েছে এবং কত টাকার গাছ তা নির্ধারণ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন