ইউপি নির্বাচনের আগেই সন্দ্বীপে সহিংসতা, সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীকে গুলি

ইউপি নির্বাচনের আগেই সন্দ্বীপে সহিংসতা, সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীকে গুলি
নাসির উদ্দীন ওরফে বাবুল

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সহিংসতা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুছাপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন ওরফে বাবুলকে (৪৫) অতর্কিত গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। মুমূর্ষু অবস্থায় রাত ২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সন্দ্বীপ থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাটের দক্ষিণ পাশে ‘নীড বাংলা স্কুল’-এর সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই হামলার পেছনে আসন্ন ইউপি নির্বাচন, বাজার কমিটির আধিপত্য, নাকি সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্যকে অপহরণের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে—তা নিয়ে এখন সন্দ্বীপজুড়ে আলোচনা ও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) দেখা দিলে নাসির উদ্দীন নিজ বাড়ির কাছে নীড বাংলা স্কুলের সামনের সড়কে পায়চারি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এসআই আলাউদ্দিন জানান, নাসির উদ্দীন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন; তার উরুতে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কারা এবং কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমীকরণ ঘুরেফিরে আসছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সক্রিয় অনুসারী হিসেবেও পরিচিত। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রতিপক্ষ তাকে সরিয়ে দিতে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর জানান, ভাড়াটে কোনো সন্ত্রাসী দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

গুলিবিদ্ধ নাসির উদ্দীন মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিমের আপন ভাই। গত ৬ সেপ্টেম্বর এক পুলিশ সদস্যকে অপহরণের মামলায় আব্দুল করিম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই নাসির উদ্দীন গুলিতে আহত হলেন। এ ছাড়া পণ্ডিতের হাট বাজার কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধও এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আইনজীবী আবু তাহের বলেন, নাসির উদ্দীন উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার রাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে আমরা জেনেছি, রাত ২টার দিকে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সন্দ্বীপ থানার ওসি সুজন হালদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি এবং থানায় কোনো মামলাও করা হয়নি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন