মাদক ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। সে যে দলেরই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ চৌধুরী।
নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে বুধবার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাপক পরিসরে শুরু হবে বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
ডিআইজি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না। একটি পরিবার, সমাজ রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কোন দলের এটা বিবেচ্য নয়। মাদক ব্যবসায়ী মানেই অপরাধী। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা প্রভাব কোনো কিছুই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করতে হবে। ছোটখাটো বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং যারা বিভিন্নভাবে মাদক ব্যবসাকে সহযোগিতা করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডিআইজি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হবে না। অপরাধের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা যাবে না।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এম. এন. নাসিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশীদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, জেলা বিএনপি'র সদস্য শহিদুল ইসলাম কিরণ, জেলা জামায়াত আমির ইসহাক খন্দকার, সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহানউদ্দিন, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলি খান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু প্রমুখ। এছাড়া জেলার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, আইনজীবী ও চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

