বিদ্যুৎস্পর্শের ৯ দিন পর মারা গেলেন সাকিব

উপজেলা প্রতিনিধি, রাউজান (চট্টগ্রাম)

বিদ্যুৎস্পর্শের ৯ দিন পর মারা গেলেন সাকিব

চট্টগ্রামের রাউজানে ভবনের ছাদে উঠে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনে বিদ্যুতায়িত হয়ে দগ্ধ হওয়া আমানত হোসেন সাকিব (২৮) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। টানা ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই মুহাম্মদ ইমন। তিনি জানান, “ভাইকে বাঁচানো গেল না। আজই তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। ড্রেসিং শেষে বের হওয়ার পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপরই তিনি মারা যান।”

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ১৫ মে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাউজান উপজেলার ফকিরহাট এলাকায় পশু হাসপাতালের পেছনে অবস্থিত ইউনুস ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে ওঠার সময় ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসেন সাকিব। উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ দূর থেকেই তাকে টেনে নেয় এবং মুহূর্তেই তার শরীরে আগুন ধরে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শনিবার সকালে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

নিহত সাকিব রাউজান উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের লেলাংগারা গ্রামের ফেতা গাজী চৌধুরী বাড়ির মরহুম আলতাফ হোসেনের ছেলে।

ঘটনার পর থেকেই স্বজনরা এটিকে “অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড” দাবি করে আসছেন। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত সাকিবের মামা মুহাম্মদ হোসাইন বলেন, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি ভাগিনাকে বাঁচাতে, কিন্তু পারিনি। এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা হত্যাকাণ্ড। আমরা এর বিচার চাই।”

সাকিবের ছোট ভাই মুহাম্মদ শাওন অভিযোগ করেন, ভবনের ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবন উঁচু না করতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু ভবনের মালিক ইউনুস সিকদার সেই নির্দেশনা অমান্য করে দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করেন। তার দাবি, “এই অবহেলার কারণেই আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এখন উল্টো আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনুস ম্যানশনের মালিক ইউনুস সিকদার। তিনি বলেন, “শুধু আমার ভবনের ওপর নয়, আশপাশের অনেক ভবনের ওপর দিয়েও বিদ্যুৎ লাইন গেছে। আমি অনুমোদন নিয়েই ভবন নির্মাণ করেছি।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন