নোয়াখালীতে বুধবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৮ জুন) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস।
জানা যায়, জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ, জজকোর্ট সড়ক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক, জেলা জামে মসজিদ সড়ক, হাউজিং অ্যাস্ট্রেট, স্টেশন সড়ক (আনসার ক্যাম্প রোড) বালুর মাঠ, মাস্টারপাড়া, খোন্দকারপাড়া, মধুসূদনপুর লক্ষ্মীনারায়ণপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস, আবাসিক ও সড়কে পানি জমে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নোয়াখালী পৌরসভার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সমস্যা দেখা দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা। শহরের অনেক এলাকার জলাধারগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত আবাসন ও প্রদান সড়কসহ বিভিন্ন শাখা সড়কের পাশে সরকারি খাল ভরাট ও দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলার ফলে বৃষ্টির পানি কোথাও যেতে পারে না। অধিকাংশ খাল দখল, জবর দখল ও ভরাট করার কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। এর ফলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপধারণ করেছে। যদি দখলকৃত খালগুলো উদ্ধার না করলে এবং টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে শহর স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে দেশের সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকবার বৈঠক করেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। এখানে জনগণেরও সহযোগিতাও প্রয়োজন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

