নিভে গেছে চোখের আলো

পরিবার নিয়ে চলতেই কষ্ট জুলাই বিপ্লবী তৌহিদের

পরিবার নিয়ে চলতেই কষ্ট জুলাই বিপ্লবী তৌহিদের
সপরিবারে জুলাই যোদ্ধা তৌহিদ উদ্দিন ভূঁইয়া। ছবি: আমার দেশ

নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর এলাকার এক কাপড় ব্যবসায়ী তৌহিদ উদ্দিন ভূঁইয়া। নরসিংদীর সেখেরচরে ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী। বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তিনজন ভাইবোনই লেখাপড়া করে।

এদিকে জুলাই বিপ্লবে গিয়ে পুলিশের গুলিতে দুটি চোখ হারিয়ে আজ তার দুনিয়াটাই অন্ধ। এখন তিনি পরিবার নিয়ে বড়ই বিপাকে। এই মুহূর্তে চেয়েছেন সরকারের সহায়তা।

বিজ্ঞাপন

একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে ক্ষুদ্র এই ব্যবসার কাজে দিনরাত পরিশ্রম করতেন তৌহিদ ভূঁইয়া। তিন সন্তানের বাবা তৌহিদের ইচ্ছা ছিল, বড় ছেলে হবে পুলিশ অফিসার, একমাত্র মেয়েটি হবে ন্যায়বিচারের প্রতীক বিচারক ও ছোট ছেলেটি হবে মানবিক ডাক্তার।

তৌহিদের বুকে স্বপ্ন তার সন্তানরা বড় হয়ে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে, তাদের সেবা করবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশ তার চোখে গুলি করে সেই রঙিন পৃথিবীকে এক নিমেষেই শেষ করে দেয়।

পুলিশের বুলেটের আঘাত কেড়ে নেয় তার দুই চোখের দৃষ্টি। দুই বছর তৌহিদের বুকের স্বপ্নগুলো যেন এক একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। চোখের আলোর সঙ্গে সঙ্গে নিভে গেল তার পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক স্বপ্ন। তার তীব্র ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীকে তিনি একবার ছুঁয়ে দেখবেন।

নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাটে তৌহিদের একটি ক্ষুদ্র কাপড়ের দোকানে কঠোর পরিশ্রমে ব্যবসাটি ভালোই চলত।আর এ ব্যবসার আয় দিয়ে চলতো তার পাঁচ সদস্য পরিবারের সংসার। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ আর সংসারের চাকা দুটোই চলেত ভালোমতো। কিন্তু তৌহিদ এখন সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন।

দৃষ্টি হারানোর পর বাধ্য হয়েই বাবুরহাটের কাপড়ের দোকানটি অন্যের কাছে দিয়েছেন। সেখান থেকে প্রতি মাসে যা আসে তার সঙ্গে জুলাই যোদ্ধার সম্মানী ভাতা নিয়ে কোনো মতে পরিবার চলে। এছাড়া ঊর্ধ্বমুখী বাজারে এ টাকা দিয়ে তিন সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসার ব্যয় আর সংসারের খরচ চালানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

তৌহিদ ভূঁইয়া জানান, ১৮ জুলাই নরসিংদীর জেলখানা মোড়ে পুলিশের গুলিতে দুই চোখ হারানোর পর দুনিয়াতে আমার সবই যেন অন্ধকার। সন্তানদের স্কুলে পড়াশোনা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। সময়মতো স্কুলের বেতনসহ লেখাপড়ার খরচ বহন করতে কষ্ট হচ্ছে।

বিগত দুই বছর ধারদেনা করে সংসার চালিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে একটাই আবেদন, আমাকে যাতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন এবং আমার সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ করে দেন।

তৌহিদ ভূইয়ার স্ত্রী মুনমুন আক্তার জানান, আমার স্বামীই ছিলেন আমাদের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন ঘরে খাওয়ার জন্য চাল কেনার টাকা নেই, ছেলেমেয়েদের স্কুলের খরচ দেওয়ার মতো কেউ নেই। চোখের আলো চিরদিনের জন্য চলে গেছে; তার সঙ্গে আমার তিনটি অবুজ সন্তানের ভবিষ্যৎও চিরতরে অন্ধকারে ডুবে গেল। আমি এখন হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি। এই থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় দেখছি না।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন