দেয়ালে ফাটল-খসে পড়ছে পলেস্তরা, তবুও চলছে ক্লাস

দেয়ালে ফাটল-খসে পড়ছে পলেস্তরা, তবুও চলছে ক্লাস

দেখলে মনে হবে এটি কোনো পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপ কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা চারদিকে ফাটল ধরা দেয়াল খসে পড়া ছাদের পলেস্তরা ভাঙা দরজা জানালা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ভবনটি অথচ এর ভেতরেই প্রতিদিন বই হাতে স্কুলে আসে শিশু শিক্ষার্থীরা। শরীয়তপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ৪৯ নং আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান।

বিজ্ঞাপন

১৯৮৯ সালে নির্মিত এ ভবনটি ২০১৩ সালেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় তারপরও দীর্ঘ ১১ বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয়নি নতুন কোনো ভবন সম্প্রতি ছুটি শেষে ক্লাস শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে দ্বিতীয় তলার একটি ভিম ভেঙে পড়ে ভাগ্যক্রমে শিক্ষার্থীরা তখন ক্লাসে না থাকায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে এরপর থেকে দ্বিতীয় তলার শ্রেণিকক্ষগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও নিচতলায় ঠাসাঠাসি করে চলছে পড়াশোনা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নিতে হয় কখন যে কোনো দেয়াল বা ছাদের অংশ ভেঙে পড়বে বলা মুশকিল কিন্তু বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই পড়াতে হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম বলেন, ২০১৮ সালে নতুন ভবনের বরাদ্দ এসেছিল কিন্তু জমি সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরু হয়নি আমরা বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে চেষ্টা করেছি কিন্তু এখনও কোনো সমাধান পাইনি শিক্ষার্থীদের জন্য এখনই একটি নিরাপদ ভবন জরুরি।

শুধু শিক্ষকরা নন অভিভাবকরাও রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায় স্থানীয় অভিভাবক হোসনে আরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালবেলা সন্তানকে স্কুলে পাঠাই কিন্তু সারাদিন বুক ধড়ফড় করে পড়াশোনার জন্য তো পাঠাচ্ছি কিন্তু যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের সরকারের কাছে দাবি শিশুদের জন্য দ্রুত নতুন ভবন করে দেওয়া হোক।

এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, ভবন নির্মাণে জমির ঘাটতি ছিল তবে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়টিকে পাঠদানের উপযোগী করা হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবন বাজি রেখে ২৫৪ শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থী শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা বলছেন শিশুদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে একটি নিরাপদ বিদ্যালয় ভবন এখন সময়ের দাবি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন