প্রাচ্যের ‘ম্যানচেস্টার’ শেখেরচর বাজার রক্ষার দাবি

বাবুরহাটে ব্রহ্মপুত্র নদ দখল করে গড়ে উঠছে দোকানপাট

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী

বাবুরহাটে ব্রহ্মপুত্র নদ দখল করে গড়ে উঠছে দোকানপাট
নরসিংদীর বাবুরহাটে ব্রহ্মপুত্র নদ দখল করে গড়ে উঠছে দোকানপাট। ছবি: আমার দেশ

নরসিংদীর বাবুরহাটে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ দোকানপাট গড়ে তোলার নামে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য। এতে করে দখল ও ভরাট হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি কাপড়ের বাজার নরসিংদীর বাবুরহাট। এরপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরঘেঁষে অবৈধভাবে তৈরি হচ্ছে দোকানপাট। আর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই দোকান তৈরির জন্য অস্থায়ী ভিটি বাণিজ্যে মেতে উঠেছে একটি চক্র। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা বাজার কমিটির সমন্বয়ে নদী দখল করে তৈরি এসব ভিটি থেকে নেওয়া হচ্ছে তিন থেকে চার লাখ টাকা। ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও বাজার কমিটি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও বাজার হারাচ্ছে তার ঐতিহ্য । ব্রহ্মপুত্র হারাচ্ছে তার প্রশস্ততা।

প্রাচ্যের মানচেস্টার খ্যাত নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট দেশের সবচেয় বড় পাইকারি কাপড়ের বাজার। দেশীয় কাপড়ের সিংহভাগ চাহিদা পূরণকারী এই বাজারে সরকারি-বেসরকারি দোকানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক। সরকার প্রতিবছর ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করে থাকে। তবে সম্প্রতি সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আলমগীর হোসেন, বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি ও শিলমান্দী ইউনিয়র বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিনের সমন্বয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ দখল করে গড়ে উঠেছে টিনশেড দোকানঘর।

বিজ্ঞাপন

বাচারি ভিটিতেও দেওয়া হচ্ছে পাকা বহুতল ঘর তৈরির অনুমোদন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভিটিপ্রতি দখলকারীদের কাছ থেকে তিন থেকে চার লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করার শর্তজুড়ে দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের। নদী দখল করে নির্মিত এসব ভিটির নেই কোনো অনুমোদন। সেই সঙ্গে রাজনীতির পরিচয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে সরকার নদী দখল উদ্ধার করছে। কিছুদিন আগেও উপজেলা প্রশাসন অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেছে, সেখানে বাজার কমিটি ও নায়ের মিলে টাকা-পয়সার বিনিময়ে অবৈধভাবে এসব ভিটি দিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দিলেও তা ভেঙে ফেলা হয়। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা নিজস্ব ক্ষমতার বলে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব ভিটি দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় শিলমান্দী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমি নিজস্বভাবে কিছু করিনি। যা করার এসিল্যান্ডের নির্দেশনায় হয়েছে। এর বাইরে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। কোনো কথা বলতে হলে বা জানতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে এসিল্যান্ড বা এডিসির সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই বলতে পারব না।

শেখেরচর (বাবুরহাট) বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় শিলমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বে নদী খননের সময় নদী তীর থেকে অবৈধ দোকানপাট সেনাবাহিনী উচ্ছেদ করে দেয়। পরে তারা বাইরে ব্যবসা করে আসছে। এখন আবার নদীর তীর দখল করে ঘর উত্তোলন অবৈধ জেনেও তারা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে আর বিএনপির ক্ষমতায় আসায় একটু বাড়তি সুযোগ নিয়ে নিজেদের মতো করে দোকান তৈরি করছে। এসব ব্যবসায়ীরা বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানালেও নদীর জায়গা হওয়ায়, অনুমোদন দেয়নি। নদী খননের পর নদীর পাড় খালি আছে ভেবে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাড়ে দোকান করে ব্যবসা করছে।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, সরকারি সম্পতি অবৈধ উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেহেতু নদীরক্ষা কমিটি রয়েছে । তার সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরও কাজ করছে। তাদের নিয়ে সভাও করা হয়েছে। তাই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অবৈধ উচ্ছেদ হচ্ছে। বৈধ দখল ও পরিবেশ দূষণ বিষয়ে প্রশাসন শক্ত অবস্থানে। শেখেরচর বাজারে নদী দখল করে দোকান নির্মাণের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন