ফতুল্লায় শ্রমিক অসন্তোষ থামলেও সতর্ক অবস্থানে পুলিশ-বিজিবি

ফতুল্লায় শ্রমিক অসন্তোষ থামলেও সতর্ক অবস্থানে পুলিশ-বিজিবি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা তিন দিন সড়কে আন্দোলন, অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের পর আপাতত শান্ত রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শ্রমিক আন্দোলন পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কসহ (লিংক রোড) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শ্রমিকদের কোনো বিক্ষোভ বা সড়ক অবরোধ করতে দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

তবে পুনরায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা মাথায় রেখে পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সড়কে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি শিল্প পুলিশের কড়া নজরদারি লক্ষ করা গেছে। এ ছাড়া প্রধান প্রধান সড়কে ফতুল্লা থানার পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান টহল দিচ্ছে।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করতে পারে এমন সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাঁজোয়া যান ও জলকামান।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ফতুল্লার কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস ও আবির ফ্যাশনের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রথম দিনের আন্দোলনে শ্রমিকেরা ভাঙচুর না করলেও দ্বিতীয় দিনে তারা কিছুটা সহিংস রূপ নেন। যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি উত্তেজিত শ্রমিকেরা পুলিশের ওপরও হামলার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের তীব্র সংঘর্ষ, পাল্টাপল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল (কাঁদুনে গ্যাস) নিক্ষেপ এবং পাঁচজনকে আটক করে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে ওই দিন অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনেও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা করলে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে এদিন শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করতে ব্যর্থ হন।

টানা তিন দিনের এই আন্দোলনের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে বারবার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেককে দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। অন্যদিকে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যুক্তিসংগত দাবির পাশাপাশি একে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল।

অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা না গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন