গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোরাতে সাধু আন্তনির তীর্থস্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে তীর্থ মেলা । শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই তীর্থ উৎসবে এ বছর খ্রিস্টভক্ত যোগ দিয়েছেন প্রায় লক্ষাধিক।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে শীতের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার তীর্থ যাত্রীর আগমনে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নাগরী ধর্মপল্লী পালকীয় পরিষদ প্রাঙ্গণ। তীর্থোৎসবটি শুধুমাত্র খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের হলেও উৎসবে অংশ নেয় বিভিন্ন জাতি ধর্মের হাজার হাজার নর-নারী। নভেনা প্রার্থনার পর সকালে দু’টি পর্বের তীর্থোৎসবে আরতি আগমনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। তীর্থোৎসবের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী নর-নারী অংশ নেন।
অনেকেই পালা গানের মাধ্যমে, নভেনা করে, তীর্থ করে, মানত করে সাধু আন্তনির গুণগান করে থাকেন। সাধু আন্তনির অসংখ্য ভক্তের ভক্তির শ্রোতধারা যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে এ কামনা তীর্থোৎসবে আগত সাধু আন্তনি ভক্ত তীর্থ যাত্রীদের।
পরস্পর আরতি শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শুরু হয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বাণী পাঠ ও উপদেশ। খ্রিস্ট প্রসাদ বিতরণ শেষে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী আশীর্বাদ জ্ঞাপন করেন দ্বিতীয় পর্বের প্রার্থনা পরিচালনাকারী ঢাকার আর্চ বিশপ বিজয় এন ডি ক্রুস। এর আগে তিনি প্রথম পর্বের তীর্থোৎসব প্রার্থনা পরিচালনা করেন। এসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ফাদার, ব্রাদারসহ উপজেলার পাঁচটি মিশনের ফাদার ও ব্রাদারগণউপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা আফ্রাদ, কালীগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) মো. আলাউদ্দিন সহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১৬৬৩ সাল থেকে পানজোরা গ্রামে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পরম আরাধ্য ব্যক্তিত্ব সাধু আন্তনির তীর্থ উৎসব পালন হয়ে আসছে। তীর্থ যাত্রীদের আগমনে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে গানে গানে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। সাধু আন্তনি ১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে (বর্তমান পর্তুগাল) জন্মগ্রহণ করেন। তার কর্মজীবন কাটে ইতালির পাদুয়ায়।মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষ ইহলোক ত্যাগ করেন। সাধু আন্তরিনের ভক্তরা বিশ্বাস করেন তিনি ছিলেন অলৌকিক এক ক্ষমতার অধিকারী আধ্যাত্মিক পুরুষ।সাধুর অনুসারীরা বিশ্বাস করেন তার সঙ্গে শিশু যিশুর সাক্ষাৎ ঘটেছিল। এর মধ্য দিয়ে সাধু আন্তনি অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করেন।তার অনুসারীদের মতে, সাধু আন্তনির নাম মুখে নিলে অন্তরে ভক্তিভাবের জন্ম নেয়। দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্তকে ছুঁয়ে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতো।আবার হারানো জিনিস ফিরে পাওয়ার জন্য তার কাছে প্রার্থনা করলে সুফল পাওয়া যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

