অনুমোদনহীন কুইন্স স্কুল: ঝুঁকিতে শত শত শিক্ষার্থী

অনুমোদনহীন কুইন্স স্কুল: ঝুঁকিতে শত শত শিক্ষার্থী

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার খালপাড় এলাকায় অবস্থিত ‘মানিকগঞ্জ কুইন্স স্কুল’। প্লে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালালেও প্রতিষ্ঠানটির নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

স্কুলটির কার্যক্রম চলছে বেউথা-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মাত্র ছয় শতক জায়গায় গড়ে ওঠা ছয়তলা ভবনে। ছোট ছোট শ্রেণিকক্ষে ৩০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসানো হয়। এই ভবনের নিচতলায় রয়েছে টেইলার্সের দোকান ও মোটরসাইকেলের শোরুম, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্কুল ছুটির সময় সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ত সড়ক ধরে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো নিয়োজিত গার্ড বা ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা।

অভিভাবকদের ভাষায়, ‘শুধু একটা দালান হলেই কি স্কুল চালানো যায়? খেলার মাঠ নেই, হাঁটার জায়গাও নেই, এই পরিবেশে সন্তানদের আটকে রাখতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।’

শিক্ষকদের বেতন নিয়েও রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৬৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন স্কুলটিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, মাসে মাত্র ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা বেতন পান তারা। অথচ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হয় ভর্তি ফি, বই, খাতা ও পরীক্ষা ফি ইত্যাদি বাবদ নিয়মিত টাকা।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য কুইন্স স্কুল কোনো ধরনের আবেদন করেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এস এম জাকির হোসেন ও প্রিন্সিপাল জাকিয়া আক্তারও স্বীকার করেছেন যে মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানের কোনো অনুমোদন তাদের নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার রুমা শিকদার বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক স্তরের অনুমোদনের জন্য আমাদের কাছে কোনো আবেদন করেনি।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘আমরা কিছু ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করেছি, তবে অনুমোদন বা বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।’

জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন