নদীতে মা ইলিশ ধরতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ডাঙ্গায় নির্বিঘ্নে বসেছে ইলিশের হাট। ক্রেতাদের ভিড়, প্রকাশ্যে চলছে বেচাকেনা। শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মার পাড়ে ইলিশ বিক্রির এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।
উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকারের পাশাপাশি নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চললেও অবৈধভাবে মাছ শিকার ও বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সোমবার সকালে জাজিরার কয়েকটি এলাকায় ইলিশ বিক্রি হতে দেখা যায়। দুপুরে বিলাশপুর এলাকায় পদ্মার পাড়েও চলে মাছের বেচাকেনা। এ সময় ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমে। একই সময়ে নদীতে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতেও দেখা গেছে জেলেদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পালেরচর, কাথুরিয়া, মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট, নাওডোবা, বিলাশপুর, পৈলান মোল্লা ও বড়কান্দিসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। কিছু অসাধু জেলে মাছ ধরার নৌকায় শক্তিশালী ‘ফাইটার ইঞ্জিন’ ব্যবহার করে নদীতে মাছ শিকার করছেন। পরে তা নদীর পাড়ে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়ে ইলিশ শিকার ও বিক্রি বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় তা অমান্য করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘অভিযান পরিচালনার জন্য মৎস্য বিভাগের নিজস্ব স্পিডবোট নেই। প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে পদ্মা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।’
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার ৩ হাজার ৩৭৬ জন জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আটজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং কয়েকটি ট্রলারও আটক করা হয়েছে। এরপরও অবৈধভাবে মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

