সরকারি দপ্তরে চাকরি করলেও আচরণ ছিল দুর্বৃত্তের মতো। ক্ষমতার ছায়া ব্যবহার করে নিজেকে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে একাধিক হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আদায় করেছেন মোটা অঙ্কের টাকা। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একজন অফিস সহকারীর (দপ্তরি) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান উকিল ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী পদে কর্মরত।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই দুপুরে ভেদরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ‘জোয়ার-ভাটা হোটেলে গিয়ে মালিক আব্দুর রহমান মল্লিককে ফোনে নিজেকে ভেদরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন।
হোটেলে অনিয়ম রয়েছে বলে জানিয়ে ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে বলেন, তার হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে সহানুভূতির কথা বলে হোটেলটি অভিযানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার শর্তে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে হোটেল মালিক বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার ৬০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।
পরে হোটেল মালিক জানতে পারেন, ফোনে থাকা ব্যক্তি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন না, তিনি একজন দপ্তরি। এরপর ৩০ জুলাই সকালে টাকা ফেরত চাইতে গেলে হাবিবুর রহমান উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন, দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে।
ভুক্তভোগী হোটেল মালিক আব্দুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘গত বুধবার দুপুর এক লোক হঠাৎ এসে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেটের লোক বলে পরিচয় দেন। আমার হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং লাইসেন্স নেই। এসব অভিযোগে মামলা হয়েছে। আমি তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, কিন্তু তিনি কাগজপত্র দেখতে চান এবং ভয়ভীতি দেখান। এক পর্যায়ে তার মোবাইল দিয়ে আমাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার সাথে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর তিনি মোবাইলে আমাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে ও দোকান বন্ধ করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করে। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাকে বিশ হাজার ৬০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেই। পরে জানতে পারি তিনি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নয় বরং উপজেলা প্রশাসন অফিসের একজন অফিস সহকারী (দপ্তরি)।
বুধবার সকালে তার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি আমাকে দোকান বন্ধ সহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি আমি ভেদরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকে জানিয়েছি। আমি আমার টাকা ফেরত ও ন্যায় বিচার চাই।
তবে শুধু আব্দুর রহমান মল্লিক নন, ওইদিনই একই কৌশলে ভেদরগঞ্জ উপজেলার অন্তত ২০টি হোটেল ও রেঁস্তোরায় গিয়ে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে টাকা দাবি করেন হাবিবুর রহমান বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো সময় নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট বলিনি। একজন স্যার ফোন করে হোটেল মালিকদের নম্বর সংগ্রহ করতে বলেন এবং কথা বলিয়ে দিতে বলেন। কে টাকা নিয়েছে, তা আমি জানি না। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মোহাম্মদ মোজাহেরুল হক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, ভবিষ্যতে কেউ যেন এভাবে প্রতারিত না হন।’
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, এক দপ্তরির এমন অপকর্ম শুধু প্রতারণাই নয়, এটি প্রশাসনিক আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

