ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই যশোর সদরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকি একজন গাড়ির হেলপার বলে মনে করা হচ্ছে। তার নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির মহাসমাবেশে অংশ নিতে যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহতদের মধ্যে চারজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মী।
নিহতরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ডা. মো. জালাল উদ্দিন, ঘুরুলিয়া গ্রামের মাওলানা মোস্তফা কামাল ও রওশন আলী এবং আড়পাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমান। একই সময় নিহত আরেক ব্যক্তির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ির চালকের সহকারী। তবে তার নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসলামী আন্দোলন যশোর জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন জানান, ঢাকায় দলের মহাসমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার রাত ১২টার কিছু পরে 'হামদান এক্সপ্রেস' এর একটি বাসে করে ৫৫ জন নেতা-কর্মী যশোর থেকে রওনা হন। রাত তিনটার পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিক্যালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান মঈন উদ্দিন।
ইসলামী আন্দোলন যশোর শাখার প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান জানান, শনিবার দুপুরের দিকে নিহত চারজনের লাশ যশোরে আনা হয়। সন্ধ্যায় নামাজে জানাজার পর তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যান। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শোয়াইব হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি দলের পক্ষে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার তদারকি করছেন।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

