ক্লাব উদ্ধার নিয়ে গণঅধিকার-বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংঘর্ষে আহত ৬

ক্লাব উদ্ধার নিয়ে গণঅধিকার-বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংঘর্ষে আহত ৬

খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম মোড়ে সরকারি একটি ভবনে ক্লাব উদ্ধার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে গণঅধিকার পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয় পক্ষের বেশকয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের ৬ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, সরকারি ওই ভবনটিতে পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্র নামের একটি ক্লাব ছিল। সেখানে জুয়া, মাদক বিক্রি, নারী ঘটিত অপকর্মসহ নানা অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়- এমন অভিযোগে গত ২৭ জানুয়ারি পঞ্চবীথির সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে সেখানে গণঅধিকার পরিষদের ব্যানার টানান নেতাকর্মীরা। এর নেতৃত্বে ছিলেন পরিষদের খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক শেখ রাশিদুল ইসলাম রাশেদ। তিনি এসকে রাশেদ নামে পরিচিত।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ওইদিন রাতেই রাশেদকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু বহিষ্কারের পরেও রাশেদ ওই ভবনে বসেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে ভবনটির দখল উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে বার্তা ছড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির খুলনার নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা ভবন উদ্ধার করতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি ফেসবুকে এক বার্তায় বলেন, খুলনার ঐতিহ্যবাহী পঞ্চবিথী ক্লাব যা ছিল এলাকার সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে গণঅধিকার পরিষদের নামে কিছু চাঁদাবাজ ও দখলদার গোষ্ঠী এটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। তারা ক্লাবকে নিজেদের আস্থানায় পরিণত করে স্থানীয় দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ জানালেও চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য থামেনি। কিন্তু অবশেষে সাহসী ছাত্রজনতা দখলদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। শান্তিপূর্ণভাবে ক্লাব দখলমুক্ত করতে গেলে তারা স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি প্রশাসন সেখানে যাওয়ার পরও পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপাস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের ভাড়াটে গুন্ডাদের ডেকে এনে ছাত্রজনতার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০-১২ জন আহত হন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ফেসবুক পেজে এক বার্তায় বলেন, খুলনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তদের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমাদের পরিষ্কার কথা, প্রশাসন দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এর সমুচিত জবাব দিবে।

হামলায় আহত ৫ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা হলেন মহানগর ছাত্রঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের শেখ সম্রাট (২৪), মহানগর শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিন (৩০), মহানগর যুব অধিকার পরিষদের সাধারন সম্পাদক সাইজিদ (২৯), মহানগর যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি তাইজুল ইসলাম (২৭), মহানগর যুব অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো: নাঈম সরদার (২৬)।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হোসেন বলেন, শান্তিধাম মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনায় কোন পক্ষ থেকে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ওই জায়গা গণপুর্ত বিভাগের। আমরা তাদের সাথে কথা বলছি। এছাড়া পঞ্চমবিথীর এক কর্মকর্তা সকালে ফোন দিয়েছিলেন। তাদের জায়গা বুঝে নেওয়ার জন্য। আমরা বলছি গণপুর্ত বিভাগের সাথে কথা বলতে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওইখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন